নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: 7শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২১ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজধানীজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। প্রতিদিনই কোনো না কোনো সংগঠন বা দল রাজপথে নামছে বিভিন্ন দাবিতে। কখনো অবরোধ, কখনো ব্লকেড, কখনো বা মানববন্ধনের মাধ্যমে চলছে এই কর্মসূচি।
দেশের রাজধানী ঢাকা এখন যেন পরিণত হয়েছে আন্দোলনের শহরে। প্রায়শই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজপথ। সড়ক অবরোধ আর বিক্ষোভে নিত্যদিন স্থবির হয়ে পড়ছে নগরজীবন।
বিভিন্ন সংগঠন দিনের শুরু থেকেই বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে সচিবালয়, কাকরাইল, পল্টন, প্রেসক্লাব ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ,অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। জনজীবন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাগুলো প্রায় প্রতিদিনই থাকছে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে ইশরাক হোসেনকে শপথ পাঠ ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে সচিবালয় ও কাকরাইল এলাকায় অবস্থান নেন তার অনুসারীরা। ফলে এসব এলাকায় মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অফিসগামী নাগরিকগণ হেটে অফিসে যেতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব আমলে নিয়ে দ্রুত ইসি পুনর্গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে সকাল ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে এনসিপি। এসব কর্মসূচির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট, গণপরিবহন সংকটসহ সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক জনদুর্ভোগ।
এসব ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণে ব্যস্ততম ঢাকা শহরে জনজীবন নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগে। অফিসপাড়ার কর্মজীবী মানুষ, স্কুলগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি সেবাগ্রহীতারাও পড়েছেন বিপাকে।
কোনো কোনো এলাকায় দেখা দিচ্ছে গণজমায়েত বা ‘মব’-এর মতো পরিস্থিতি, যা কখনো কখনো সহিংস রূপ নিচ্ছে। ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে বিচ্ছিন্নভাবে। এমনকি কয়েকটি ঘটনায় পথচারী বা সাধারণ মানুষ জনরোষের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাভাবিক প্রতিবাদ ও দাবিমূলক কর্মসূচি প্রত্যাশিত হলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নজরদারি না থাকলে তা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।
এছাড়া হঠাৎ করে রাজপথে ঝটিকা মিছিল করছে সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন। এই ঝটিকা মিছিল সরকার এবং প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
নাগরিকদের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তোলা সকলের অধিকার, তবে রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনজীবন বিপর্যস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা চাইছেন, আন্দোলন ও প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা হোক।
নাগরিকরা বলছেন, আন্দোলন হোক শান্তিপূর্ণ, তবে রাজপথ বন্ধ করে জনজীবন বিপর্যস্ত করাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ প্রশাসন এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না — বরং পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লাগাতার আন্দোলন ঢাকার স্বাভাবিক ছন্দে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবরওয়ালা/ এমএজেড