খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০০৩ সালে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে, নয়নতারা তার চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন মালয়ালম ছবি মানাসিনাক্কারে-এর মাধ্যমে। এই ছবির মাধ্যমে তার অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে তেলেগু চলচ্চিত্রে প্রথম পদক্ষেপ নেন তিনি আয়া সিনেমার মাধ্যমে, আর ২০২৩ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে জওয়ান সিনেমার মাধ্যমে বলিউডেও অভিষেক ঘটে তার।
নয়নতারার ক্যারিয়ারটি দক্ষিণী সিনেমায় বিশেষভাবে সফল, যেখানে তামিল ও তেলেগু চলচ্চিত্রের ক্ষেত্র পুরুষপ্রধান হওয়া সত্ত্বেও তিনি অবিচল ছিলেন এবং নিজের অভিনয়ের দক্ষতার মাধ্যমে শ্রদ্ধা অর্জন করেন। তবে, সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এই ইন্ডাস্ট্রিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে সফলতার সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নয়নতারা। ১৮ নভেম্বর তার জন্মদিন ছিল, যেটি এই অনন্য যাত্রার আরও একটি মাইলফলক।
নয়নতারার চলচ্চিত্রে প্রবেশের গল্পটি একেবারেই আকর্ষণীয়। কলেজের ছাত্রি এবং পার্ট টাইম মডেল হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি, সেই সময়ই নির্মাতা সাথিয়া আনথিকড়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে, সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তার অভিনয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু পরে এক শর্তে তিনি সম্মতি জানান—শুধু একটি সিনেমাই করবেন।
ফলস্বরূপ, তার প্রথম সিনেমা সুপারহিট হয় এবং পরপর একাধিক প্রস্তাব আসতে থাকে। ২০০৪ সালে তার দুটি সিনেমা মুক্তি পায়—নাট্টুরাজাভু ও বিশমায়াথুমবাথু, যা তাকে তামিল ও তেলেগু চলচ্চিত্রের সেরা অভিনেত্রীদের তালিকায় জায়গা করে দেয়।
নয়নতারার এই সাফল্য তার কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা এবং দৃঢ় মনোবলের ফল। পরবর্তীতে তামিল ও তেলেগু চলচ্চিত্রে একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দেন তিনি। তার জনপ্রিয়তা আজকের দিনে তাকে “লেডি সুপারস্টার” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একে একে তার সিনেমায় দর্শকরা পেয়েছেন গুণী অভিনেত্রী, যিনি শুধু মুখ্য চরিত্রেই নয়, সিনেমার পরিপূরক শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।
জিকিউ সাময়িকী অনুযায়ী, নয়নতারা বর্তমানে ২০০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক। প্রতি সিনেমায় তার পারিশ্রমিক ৪ থেকে ৫ কোটি রুপি এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি থেকেও তিনি আয় করেন। তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থাও তাকে ভালো আয় এনে দেয়।
এটি তার শুধু অভিনয় জীবন নয়, বরং ব্যবসায়িক ক্ষমতারও প্রমাণ। নায়িকা হিসেবে তার সাফল্য যেমন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তেমনি ব্যবসায়ী হিসেবেও তার নাম দানা বেঁধে উঠেছে।
নয়নতারার গল্প এক প্রতিকূল পরিবেশে সফলতার উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। এখন, শুধু দক্ষিণী চলচ্চিত্র নয়, এক সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবেও তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।
আজও তিনি তার অভিনয়, ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত জীবনে সমান তালে সফল। তার যাত্রা হয়তো অনেককেই অনুপ্রাণিত করবে, কারণ তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—একটি সফল ক্যারিয়ার তৈরি করতে, কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে, এবং নারীর ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কীভাবে নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগানো যায়।