খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিলানে অনুষ্ঠিত কোর্তিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্ব ক্রীড়া মহলে আনন্দমুখর হলেও, ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের প্রবেশের সময় সেই আনন্দের ছাপ কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়। গাজায় চলমান ইসরাইলি অভিযানের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির প্রতি সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় চলছে, যা এবার অলিম্পিকের মঞ্চেও প্রতিফলিত হলো।
শুক্রবার সান সিরো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী প্যারেডে, চার সদস্যের ইসরাইলি পতাকাবাহী দল কুচকাওয়াজে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকদের মধ্যে থেকে ভেসে আসে দুয়ো ও শিস। এই প্রতিক্রিয়া এমন একটি প্রেক্ষাপটে এসেছে যখন ইসরাইলি হামলায় অক্টোবরের পর গাজার সীমান্তে নিহত ফিলিস্তিনি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৫৬০ ছাড়িয়েছে, যার অধিকাংশই বেসামরিক।
অনুষ্ঠানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিত ছিলেন। পতাকা নেড়ে অংশগ্রহণরত স্ত্রী উষার সঙ্গে প্যারেডে যাত্রা করলেও, তাদের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতে শিস ও প্রতিবাদের শব্দ লক্ষ্য করা গেছে। এসময় মিলানের বিভিন্ন ক্লাস্টারে একযোগে প্যারেড চললেও, রাজনৈতিক উত্তেজনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্পষ্ট ছিল।
তথ্য অনুসারে, এই অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী দেশের কুচকাওয়াজে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের ধ্বজা বাহন, শারীরিক উপস্থিতি ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যেই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ইসরাইলি পতাকাবাহী সদস্য | ৪ জন |
| গাজা হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি | ~৫৬০ জন (বেসামরিক অধিকাংশ) |
| ইতিহাসে ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি | ১৯৭২ মিউনিখ অলিম্পিকে ১১ জন ক্রীড়াবিদ নিহত |
| অলিম্পিক আয়োজক শহর | মিলান, ইতালি |
| উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তারিখ | ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| প্রধান অতিথি | যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স |
ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ইসরাইলকে এ আসর থেকে নিষিদ্ধ করার সকল দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে, মিলানে এই দাবিকে সমর্থন করে শত শত মানুষ ‘আইসিই আউট’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এই বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত ছিল ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই)-এর কার্যক্রম এবং ফেডারেল অভিবাসন নীতির প্রতি অসন্তোষ।
ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়, অলিম্পিকের মঞ্চে ইসরাইলিরা এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক অধ্যায় অভিজ্ঞ হয়েছে। ১৯৭২ সালে মিউনিখ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয় দেশটির ১১ জন ক্রীড়াবিদ। সেই থেকে ইসরাইলি প্রতিনিধি দল ও বিশ্ব ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়ে সতর্কতা বেড়ে গেছে।
মোটের উপর, মিলানে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ক্রীড়াবিদদের জন্য আনন্দময় হলেও, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট দর্শকদের আচরণে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।