খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন সংযোজন হিসেবে উঠে আসছে কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাই। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা—শহরের নতুন রূপ পাওয়া বহুমুখী স্টেডিয়াম—অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হতে পারে। আর বিশেষ বিষয় হলো, অভিষেক টেস্টটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগামী আগস্টে।
২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলেছে মাত্র একবার—২০০৩ সালে। তখনো অস্ট্রেলিয়া নতুন ভেন্যু অভিষেক দিয়েছিল বাংলাদেশের মাধ্যমেই—ডারউইনের মারারা ওভাল এবং কেয়ার্নসের বুন্ডাবার্গ রাম স্টেডিয়ামে। সময়ের চাকা ঘুরে আবারও বাংলাদেশই হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার নতুন টেস্ট মঞ্চের প্রথম অতিথি।
অস্ট্রেলিয়ার সামনের গ্রীষ্ম মৌসুম ক্রিকেট সূচির দিক থেকে অস্বাভাবিকভাবে হালকা। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ ছাড়া তেমন কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট নেই। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ব্রিসবেনের বিখ্যাত গ্যাবা বাদ পড়েছে। অর্ধ শতাব্দী পর এই প্রথম সেখানে কোনো টেস্ট হচ্ছে না।
এই ‘ঘাটতি মেটাতে’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া উত্তরাঞ্চলের স্টেডিয়ামগুলোকে সামনে আনছে। কারণ, সেখানে সারা বছরই তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া থাকে। ফলে শীতকালীন টেস্ট আয়োজনেও সমস্যা নেই। ম্যাকাই, ডারউইন, কেয়ার্নস এবং টাউনসভিল—সবকটিই আলোচনায়।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় ইতিমধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সম্প্রচার ব্যবস্থা ও আধুনিক একাডেমি—সব মিলিয়ে এটি পূর্ণ প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ভেন্যুর সাদা বলের ম্যাচগুলো ছিল দর্শকে উপচে পড়া—যা ম্যাকাইকে টেস্ট ভেন্যু হওয়ার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ দলের জন্য এটি হবে নতুন কন্ডিশন, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং বড় ধরনের ঐতিহাসিক মঞ্চ। নতুন ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট মানেই বিশ্ব ক্রিকেটের নজর বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দিকেই ঘুরে যাবে।