খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
ঢাকার কর দপ্তরে নিয়োজিত অস্থায়ী নাইট গার্ড শাহদাত হোসেন কাজল মোল্লাহর বিরুদ্ধে রাজস্ব জালিয়াতির বিস্ময়কর অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র চাকরি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কর অফিসের ভেতরে এক চক্র গড়ে তোলেন তিনি, যেখান থেকে নানান প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বড় বড় কোম্পানি ও সরকারি কর্মকর্তাদের আয়কর ফাইলে ভুয়া চালান সংযুক্ত করে কর বাবদ পুরো টাকাই নিজের পকেটে নেন। এই জালিয়াতি করতে গিয়ে উর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতাও নেন তিনি।
ঢাকা কর অঞ্চল-৩ এর এক করদাতার ফাইল যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, তার প্রকৃত উৎসে কর কর্তন হয়েছে ৯০ লাখ টাকা, অথচ চালান জমা হয়েছে মাত্র ৩৬ লাখ টাকার। পরবর্তীতে বিগত ১৩ বছরের রিটার্ন যাচাই করে বেরিয়ে আসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা কর ফাঁকির চিত্র। একই কর অঞ্চলের আরও তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তার রিটার্নেও প্রায় ২২ কোটি টাকার কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঢাকা কর অঞ্চল-১ এ আরও ভয়াবহ ঘটনা সামনে আসে। সেখানে নিয়মিত দুই করদাতার পুরোনো রিটার্ন ফাইল গায়েব করে দেওয়া হয়। এরপর নতুনভাবে রিটার্ন তৈরি করে তাতে ইচ্ছেমতো আয় ও সম্পদ সংযোজন করা হয়। এতে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা কর ফাঁকি দেওয়া হয়। এ জালিয়াতির নেপথ্যে কাজল মোল্লাহ ছাড়াও কর বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত ছিলেন বলে আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর ও অন্যান্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জালিয়াত চক্রে যুক্ত ছিলেন কর পরিদর্শক মো. আব্দুল বারী, অফিস সহকারী সেলিম শরীফ, নিরাপত্তাকর্মী নজরুল ইসলাম, এবং নোটিশ সারভেয়ার সৈয়দ শাকিল হোসেন।
আয়কর নথি বিশ্লেষণে জানা যায়, কাজল মোল্লাহর নামে রয়েছে অন্তত ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ। শান্তিনগরে একটি বাণিজ্যিক স্পেস, ঢাকায় জমি ও একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি গাড়িসহ রয়েছে বিপুল সম্পদ। দায়-দেনা দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার মতো। কিন্তু বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন প্রতারণা ঘটতে পেরেছে করদাতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই। ঢাকার ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের মজুমদার মেজবাহ করদাতাদের আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
খবরওয়ালা/এন