খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অন্যতম আসামি ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে এজলাসের প্রথাগত কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়নি। পুরো সময়জুড়ে তিনি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে পার্ক করে রাখা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই অবস্থান করেন। বিচারকাজ শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাঁকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসিকিউশন ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সংসদ সদস্য বর্তমানে বেশ কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এই অসুস্থতার কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। আজ সকালে হাসপাতাল থেকে সরাসরি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে না তুলে অ্যাম্বুলেন্সেই রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ২২ জন। আলোচিত এই মামলায় সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীসহ এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার বাকি ১৭ জন আসামি এখনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক রয়েছেন। এই পলাতকদের তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ বিগত সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম রয়েছে।
আজকের শুনানিতে ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবী তাঁর মক্কেলকে এই মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে আদালতে নানা আইনি যুক্তি তুলে ধরেন। তবে আজ তাঁর পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়নি। আদালত আসামিপক্ষের বক্তব্য আংশিক শোনার পর আগামী রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন ফজলে করিমের অব্যাহতির আবেদনের পক্ষে তাঁর আইনজীবী পুনরায় বাকি যুক্তিতর্ক পেশ করবেন।
প্রসিকিউশনের দায়ের করা এই মামলায় ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যেখানে মোট ছয়জনকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করার বিবরণ রয়েছে:
প্রথম অভিযোগ: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন চলাকালে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে গুলি করে হত্যা করা।
দ্বিতীয় অভিযোগ: এর ঠিক দুদিন পর অর্থাৎ ১৮ জুলাই একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে নির্মমভাবে হত্যা করা।
তৃতীয় অভিযোগ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পুরো সময়জুড়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে ও গুলি করে গুরুতর জখম ও অঙ্গহানি করা।
আদালত এই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছেন। আগামী রোববারের শুনানির পর মামলাটির পরবর্তী ধাপের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত জানাবেন।