খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এর আগে গত ৩ জুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালতেও চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন খারিজ হয়েছিল। সেই আদেশের বিরুদ্ধে দাখিল করা হয় নতুন আবেদন মহানগর দায়রা জজ আদালতে।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, চিন্ময় দাস বর্তমানে কারাগারে আছেন। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরসহ মোট পাঁচটি মামলায় তাঁর জামিন চেয়েছিলেন আইনজীবীরা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, “শুনানিতে আমরা আদালতকে জানিয়েছি, মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না। ষড়যন্ত্র করে পরে তাঁকে আসামি করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ, লিভার সিরোসিসে ভুগছেন।”
আদালত সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিন্ময় দাসের নির্দেশ ও উসকানিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেই প্রেক্ষিতে তাঁকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর আগে ৫ মে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে সাইফুল হত্যা মামলায় চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর তাঁকে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে আসামি চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় আদালত সূত্র।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকার মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। পরবর্তীতে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই মামলায় চিন্ময় দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২৬ নভেম্বর চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা দায়ের হয়। এসব ছয় মামলায় মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ