খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে গত শনিবারের দিনটি এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচে ব্যাটারদের শাসন এবং বোলারদের অসহায়ত্বের এক বিরল চিত্র ফুটে উঠেছে। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম এবং জয়পুরের সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই দুই ম্যাচে সর্বমোট ৭৭.২ ওভার খেলা হয়েছে, যাতে সংগৃহীত রানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮৬। আইপিএলের ইতিহাসে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল এক দিনে সর্বোচ্চ ৮৯৯ রান সংগৃহীত হয়েছিল।
শনিবারের দুই ম্যাচে বোলারদের ওপর দিয়ে কার্যত টর্নেডো বয়ে গেছে। দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংসের মধ্যকার ম্যাচে সংগৃহীত হয়েছে ৫২৯ রান। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচে উঠেছে ৪৫৭ রান। এই দুই ম্যাচে মোট ৫৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ব্যাটাররা, যা আইপিএলে এক দিনে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ৫৩টি ছক্কার, যা ২০২৫ সালের ৪ মে ও ২৫ মে’র ম্যাচগুলোতে দেখা গিয়েছিল।
দিল্লির ওপেনার লোকেশ রাহুল পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে খেলেন এক বিধ্বংসী ইনিংস। ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস খেলে তিনি আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ড গড়েন। এটি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। মাত্র ৪৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা রাহুল ম্যাচসেরা নির্বাচিত হলেও তার দল জয়লাভ করতে পারেনি।
দিল্লি ক্যাপিটালস তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৬৪ রান সংগ্রহ করা সত্ত্বেও পাঞ্জাব কিংস তা তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয়। প্রভসিমরান সিংয়ের ৭৬ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের অপরাজিত ৭১ রানের ওপর ভর করে পাঞ্জাব ৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। এটি আইপিএল ও স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড।
জয়পুরের ম্যাচে ১৫ বছর বয়সী রাজস্থান রয়্যালস ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পেসার প্রফুল হিঞ্জের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই তিনি ৪টি ছক্কা হাঁকান। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ওভারে ৪টি ছক্কা মারার ঘটনা এটিই প্রথম। পরবর্তীতে হায়দরাবাদ রান তাড়া করতে নেমে তাদের ইনিংসের প্রথম ওভারে আরও ২টি ছক্কা মারে। ফলে এক ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে প্রথম ওভারে মোট ৬টি ছক্কা হওয়ার ঘটনা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো ঘটল।
সূর্যবংশী মাত্র ১৫ বলে হাফ-সেঞ্চুরি এবং ৩৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম (৪৭৩ বলে) ১০০০ রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সে ১০০০ রানের রেকর্ড। এছাড়া মাত্র ১৫টি আইপিএল ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখান তিনি। তবে তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি সত্ত্বেও রাজস্থান রয়্যালস পরাজিত হয়। হায়দরাবাদ ৯ বল বাকি থাকতেই ২২৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায়।
| রেকর্ডের বিষয় | অর্জিত সাফল্য/পরিসংখ্যান | পূর্ববর্তী রেকর্ড (যদি থাকে) |
| এক দিনে মোট রান | ৯৮৬ রান (২ ম্যাচে) | ৮৯৯ রান (২০২৪) |
| এক দিনে মোট ছক্কা | ৫৯টি | ৫৩টি (২০২৫) |
| সর্বোচ্চ রান তাড়া | ২৬৫ রান (পাঞ্জাব কিংস) | – |
| ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান | লোকেশ রাহুল (১৫২*) | – |
| দ্রুততম ১০০০ রান (বল হিসেবে) | বৈভব সূর্যবংশী (৪৭৩ বল) | – |
| কনিষ্ঠতম ১০০০ রানধারী | বৈভব সূর্যবংশী (১৫ বছর) | – |
| প্রথম ওভারে সর্বোচ্চ ছক্কা | ৪টি (সূর্যবংশী) | – |
| ম্যাচের দুই প্রথম ওভারে মোট ছক্কা | ৬টি (রাজস্থান বনাম হায়দরাবাদ) | – |
শনিবারের এই ম্যাচ দুটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের জন্য রক্ষা পাওয়া কতটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাটারদের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর ছোট সীমানার সুযোগ নিয়ে আইপিএল এখন পুরোপুরি রেকর্ডের আসরে পরিণত হয়েছে।