নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা আরও দুটি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে আইভীর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলায় জামিন কার্যকর অবস্থায় থাকল।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, সব মামলায় জামিন বহাল থাকায় আইভীর মুক্তিতে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। মামলাগুলো মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাসমূহের প্রেক্ষাপটে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা এবং হামলার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের ১০ তারিখে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত পৃথক ১০টি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। ওই সিদ্ধান্তে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বড় অংশে আইনি স্বস্তি আসে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে চারটি ছিল হত্যা মামলা এবং একটি ছিল সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগসংক্রান্ত। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ এসব মামলায় তাঁকে জামিন দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ পরে এসব জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। চেম্বার আদালত প্রথমে জামিন স্থগিত করলেও পরবর্তীতে নিয়মিত শুনানির জন্য বিষয়টি আপিল বিভাগে পাঠানো হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১০টি মামলায় জামিন বহাল রাখা হয়।
পরবর্তীতে আরও দুটি নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে হাইকোর্ট বিভাগ সেগুলোতেও জামিন দেন। সর্বশেষ চেম্বার আদালত সেই দুই মামলায়ও জামিন বহাল রাখলেন।
নিচে মামলাসমূহ ও জামিন পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত সময়রেখা দেওয়া হলো—
সময়কাল
ঘটনা
আদালতের সিদ্ধান্ত
গত বছরের নভেম্বর
পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো
পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে জামিন
ফেব্রুয়ারি
আরও পাঁচটি মামলায় জামিন
হাইকোর্ট বিভাগের জামিন প্রদান
মার্চ
পূর্বের জামিন স্থগিতের আবেদন
চেম্বার আদালতে স্থগিতাদেশ
মে (১০ তারিখ)
১০টি মামলায় শুনানি
আপিল বিভাগে জামিন বহাল
মে (১৭ তারিখ)
আরও দুটি মামলা
চেম্বার আদালতে জামিন বহাল
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক ধাপে দেওয়া এই রায়গুলোর মাধ্যমে আইভীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর আইনি জটিলতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। সব মামলায় জামিন বহাল থাকায় এখন তাঁর চলাচল ও আইনি অবস্থান স্বাভাবিক হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।