খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে মাঘ ১৪৩২ | ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
টেকনিক্যাল ও বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন আলোচনায় নেমেছে। পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি বয়কট করার ফলে বিশ্বকাপে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষত ভারতীয় সম্প্রচারকারীদের জন্য এই ক্ষতি কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইসিসি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার উপর। খাজাকে একজন নিরপক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন। সূত্র অনুযায়ী, তাকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারত–পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচে পাকিস্তানকে খেলতে রাজি করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি আইসিসির পক্ষপাতমূলক মনোভাব পাকিস্তানের এই বয়কট সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান দলকে ভারত ম্যাচে অংশগ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা ‘প্রতিবাদের একটি রূপ’ হিসেবে ধরা হয়। একই সূত্র দাবি করেছে যে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে সংস্থা কার্যত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আইসিসি প্রকাশ্যে পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এই বয়কট কেবল ক্রিকেটের স্বার্থ নয়, বরং বৈশ্বিক দর্শক ও সমর্থকদের জন্যও ক্ষতিকর। সংস্থা জোর দিয়েছে যে, সব অংশগ্রহণকারীর স্বার্থ রক্ষা করতে সমঝোতার দিকে এগোনো অপরিহার্য।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তানের ম্যাচ সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | স্থান | ম্যাচের গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| ৭ ফেব্রুয়ারি | নেদারল্যান্ডস | কলম্বো | উদ্বোধনী ম্যাচ |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র | কলম্বো | গ্রুপ পর্বের ম্যাচ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | ভারত | কলম্বো | বাণিজ্যিক ও দর্শকসংক্রান্ত প্রধান ম্যাচ |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | নামিবিয়া | কলম্বো | গ্রুপ পর্বের ম্যাচ |
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। একটি ম্যাচ থেকে মোট আয় হতে পারে প্রায় ৫০ কোটি ডলার, যা সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসে। মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্পটের মূল্য ২৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ রুপির মধ্যে থাকে, যা ভারতের অন্যান্য ম্যাচের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। শুধুমাত্র এই ম্যাচ থেকেই ভারতীয় সম্প্রচারকরা আনুমানিক ৩০০ কোটি রুপির বিজ্ঞাপন আয় আশা করেছিল। পাকিস্তানের বয়কটের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রায় ২০০ কোটি রুপির আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ আশা করছে, পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সমঝোতিপূর্ণ সমাধান দ্রুত বের হবে, যা বিশ্ব ক্রিকেট ও কোটি কোটি সমর্থকের স্বার্থ রক্ষা করবে।