খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে গত এক মাস ধরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পুলিশ অভিযান চলছে। অভিযোগ—তাঁরা বাড়িতে, পোশাকে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আই লাভ মুহাম্মদ (সা.)’ লিখে ধর্মীয় উসকানি দিচ্ছেন। পুলিশ বাড়িঘরে হানা দিয়ে বহু মুসলিম পুরুষকে গ্রেপ্তার করছে; এমনকি কিছু জায়গায় বাড়িঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অলাভজনক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর) জানিয়েছে, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২টি মামলা হয়েছে, আসামির সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি, এবং অন্তত ৪০ জন মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত উত্তর প্রদেশের কানপুর শহরে। ৪ সেপ্টেম্বর সেখানে মুসলিম সম্প্রদায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী উদ্যাপন করছিলেন। এক মহল্লায় রাস্তার পাশে আলোকসজ্জাসহ একটি বোর্ড টাঙানো হয়, যাতে লেখা ছিল—‘I Love Muhammad (সা.)’।
এই লেখাটিকেই কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু হিন্দু সংগঠন আপত্তি তোলে। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় উৎসবে নতুন কোনো উপাদান যুক্ত করা উত্তর প্রদেশের আইনে নিষিদ্ধ, আর এই বোর্ড সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙেছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাটিতে (যেখানে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ মুসলিম) বিষয়টি দ্রুত উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
হিন্দু সংগঠনগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে কানপুর পুলিশ দুই ডজন মুসলিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তবে অভিযোগের ধরন ছিল আরও গুরুতর—“ধর্ম ব্যবহার করে বিদ্বেষ ছড়ানো”।
ভারতের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কেউ এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ‘আই লাভ মুহাম্মদ (সা.)’—এমন একটি বাক্য ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ, সেটিকে ‘আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখানো ধর্মীয় বৈষম্যকে আরও ঘনীভূত করছে।
যেখানে বাকস্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, সেখানে এমন অভিযানকে অনেকেই দেখছেন “রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের মুসলিমবিদ্বেষের নতুন উদাহরণ” হিসেবে।
ভারতে এখন প্রশ্ন উঠছে—“আই লাভ মুহাম্মদ” বলা কি সত্যিই অপরাধ?” কানপুর থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনাই এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের একের পর এক বিজেপিশাসিত রাজ্যে, যেখানে ভালোবাসার প্রকাশও হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অপরাধের সমার্থক।
খবরওয়ালা/এমএজেড