খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
যশোরের মনিরামপুরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিরোধ মেটাতে গিয়ে চালুয়াহাটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই (৫০) মারা গেছেন। তিনি উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেংগুড়াহাট বাজারে আবুল খায়ের, মোস্তাক ও বিল্লাল নামে তিন ব্যক্তি পুরোনো আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তর্কে জড়ায়। বিষয়টি লক্ষ্য করে সেখানে যান আব্দুল হাই, বিরোধ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বিরোধ থামানোর সময় তাঁর বুকে আঘাত লাগার পর তিনি পড়ে যান। অন্য একটি সূত্র বলছে, ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর পূর্বে স্ট্রোকের রোগী ছিলেন আব্দুল হাই, তিনি পুনরায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
চালুয়াহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান শাহিন বলেন, “আব্দুল হাই আগে থেকেই স্ট্রোকের রোগী ছিলেন। বিরোধ মেটানোর সময় ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর আবারও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
আবুল খায়েরকে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে বাজারের একটি ঘরে আটক করেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে হেফাজতে নেয়। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রজিউল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আবুল খায়েরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
নিহতের পরিচয় ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| নাম | বয়স | পদবি | গ্রামের নাম | মৃত হওয়ার সময় | সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তি | পুলিশি ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আব্দুল হাই | ৫০ | যুগ্ম আহ্বায়ক, চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ | রতনদিয়া | শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা | আবুল খায়ের, মোস্তাক, বিল্লাল | আবুল খায়ারকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে |
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাইয়ের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘটনাটি প্রমাণ করে, স্থানীয় বিরোধ সমাধানের প্রচেষ্টার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে, রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা এবং বাজার এলাকায় সংঘর্ষ রোধ করার প্রয়োজনীয়তাও পুনরায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন এবং জনসাধারণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে সামান্য বিরোধও বড় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় পরিণত না হয়।
এ পর্যন্ত তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।