খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে পৌষ ১৪৩২ | ১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজ, ১ জানুয়ারি ২০২৬, থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। নতুন এই সিস্টেমের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন মোবাইল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে চুরি বা অননুমোদিত ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কে সচল থাকার সুযোগ থাকবে না।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ব্যবসায়ীদের আবেদনের পর স্টকে থাকা ফোনের আইএমইআই জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল। সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানান, “বর্তমান নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। স্টকে জমাকৃত আইএমইআই তালিকার ফোনও নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। শুধুমাত্র নতুনভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইসগুলো যাচাইয়ের আওতায় আসবে।”
প্রবাসীরা দেশভাগে আনতে পারবেন প্রতি বছরে দুটি নতুন হ্যান্ডসেট, যার জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা ৩ মাস। প্রয়োজন হবে ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানিয়েছেন, “যদি উপদেষ্টা পরিষদ মোবাইল আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এনইআইআর বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।”
গত ১০ ডিসেম্বর, গ্রে মার্কেটের ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ হয়েছিল। যদিও কিছু সময়ে কার্যক্রম স্থগিতের কথা বলা হয়েছিল, বিটিআরসি জানিয়েছে, তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা নেই।
নতুন সিস্টেম আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই মিলিয়ে ডিভাইস শনাক্ত করবে, তবে কল বা মেসেজ রেকর্ড করার ক্ষমতা নেই। কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকায় নজরদারির সুযোগ থাকলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সাইবার সুরক্ষা দুর্বল হলে তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে গোপনীয়তা রক্ষা ও হয়রানি বন্ধে ধারা সংযুক্ত হয়েছে এবং লঙ্ঘনকারীর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই চুরি হওয়া ফোন বন্ধের জন্য এনইআইআর জাতীয় ব্যবস্থা চালু করেছে।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| কার্যক্রম শুরু | ১ জানুয়ারি ২০২৬ |
| উদ্দেশ্য | অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ, চুরি ফোন শনাক্ত, বাজারে শৃঙ্খলা |
| প্রভাবিত ফোন | নতুন নেটওয়ার্কে যুক্ত অবৈধ/অবৈধ নিবন্ধনহীন হ্যান্ডসেট |
| ব্যবসায়ীদের সুবিধা | স্টকে থাকা আইএমইআই জমা দেওয়ার সময়সীমা: ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত |
| প্রবাসীদের সুবিধা | দেশে আনা যাবে ২টি হ্যান্ডসেট, নিবন্ধনের সময়সীমা: ৩ মাস |
| সিস্টেম শনাক্তকরণ | আইএমইআই, সিম নম্বর, আইএমএসআই মিলিয়ে শনাক্ত |
| নজরদারি ক্ষমতা | কল/মেসেজ রেকর্ড নয় |
| সাইবার নিরাপত্তা | তথ্য সুরক্ষার জন্য ধারা সংযুক্ত, লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান |
| বিদেশি উদাহরণ | ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া |