খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা নিজস্ব প্রতিনিধি: আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) শিশু প্রহর থাকবে না। তবে গতকাল শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিল শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা। মেলা খুলেছিল দুপুর ২টায়। গতকালও প্রচুর লোক সমাগম হয়েছিল। বিক্রি হয়েছে ভালো।
গতকাল মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বইয়ের নাম এসেছে ১০২টি। চলছে মোড়ক উন্মোচন। প্রবীণ অভিনয় শিল্পী দিলারা জামান বিকেলে স্বপ্ন-৭১এর স্টলে আমিনা মাহমুদ মিনার কবিতা ‘তোমাকে চাই বারবার’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, ‘বয়সের কারণে এত ভিড়ের মধ্য বইমেলায় আসতে পারেন না। অনেক দিন পর মেলায় এসে পুরোনো দিনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। মেলার পরিবেশ বেশ ভালো লেগেছে তাঁর।’
মেলায় এবারের নতুন বইয়ের মধ্যে আগামী প্রকাশনী এনেছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের উপন্যাস ‘জুলাই ক্যালাইডোস্কোপ’। প্রথমা প্রকাশন এনেছে মাসউদ আহমদের অদ্বৈত মল্ল বর্মণের জীবন ও সময় কেন্দ্রিক উপন্যাস ‘তিতাসের বুনো হাঁস’, ভাষা প্রকাশ এনেছে লোকসাহিত্য বিষয়ক বই যাকির সাইদ সংগৃহীত ও সম্পাদিত মুন্সীগঞ্জের মেয়েলি গীত, রিদম প্রকাশনা সংস্থা এনেছে জসিম মল্লিকের উপন্যাস ‘তোমার স্বপ্নের হাতে’, বিশ্বসাহিত্য ভবন এনেছে রকিবুল হাসানের প্রবন্ধ সংস্কৃতি পরম্পরা:অভিঘাত অভিজ্ঞান, ঐতিহ্য এনেছে মেসবাহ্ কামালের কবিতা পৃথিবী শেষাণবহীন একদিন, বাংলা প্রকাশ এনেছে ড.মাহবুব হাসানের প্রবন্ধ ‘গদ্যের ম্যাজিক’,অনন্যা এনেছে ‘মতিন রায়হানের নির্বাচিত কবিতা’, বৈতরণী এনেছে নিজাম বিশ্বাসের কবিতা ‘জল মাকড়ের নৌকাবাইচ’, কথা প্রকাশ এনেছে দন্ত্যস রওশনের কিশোর গল্প ‘গল্পবেলা’,স্বপ্ন ৭১ এনেছে তৌহিদুল ইসলামের রম্যরচনা ‘বিয়ে বাড়িতে ইয়ে’,পাঞ্জেরি এনেছে রফিকুর রশীদের কিশোর উপন্যাস ‘সেই এক ভুতুড়ে ক্লাব’,বাংলা একাডেমি এনেছে আজাদ রহমানের বাংলা খেয়াল,তৃতীয় খণ্ড,সময় এনেছে দীপু মাহমুদের উপন্যাস ‘উষ্ণতা’।
মেলা মঞ্চের অনুষ্ঠান
বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘একজন মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আবদুস সেলিম এবং মোহাম্মদ হারুন রশিদ। সভাপতিত্ব করেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
প্রাবন্ধিক বলেন, মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ ছিলেন একাধারে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, প্রশাসক, কবি, লেখক, অনুবাদক ও সুফিবাদ চর্চাকারী। তাঁর লেখালেখির জগৎ বিচিত্র। তিনি ভাষা-সমাজ-শিক্ষা প্রসঙ্গে জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ যেমন লিখেছেন, তেমনি রচনা করেছেন সুখপাঠ্য ভ্রমণকাহিনি। অনুবাদের ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর লেখনী ও ভাষার অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হলো সহজবোধ্যতা ও রসবোধ। সময়ের প্রেক্ষাপটে তাঁর চিন্তাচেতনা বেশ আধুনিক ও সময়োপযোগী ছিল, যার আবেদন বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।
আলোচকরা বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ ছিলেন একজন সৎ, সাহসী, আপসহীন, ক্ষণজন্মা, মেধাবী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ। তিনি বাংলাদেশের সুফিবাদ ও সুফি-সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট লেখক। অনুবাদকর্মের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি তাঁর গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ছিলেন সংবেদনশীল এবং বন্ধুবৎসল একজন মানুষ। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ একজন শুদ্ধ, লড়াকু এবং গভীর প্রজ্ঞাময় মানুষ হিসেবে আমাদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবেন।
সভাপতির বক্তব্যে খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা প্রচলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী বিরল প্রকৃতির একজন মানুষ।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ফরিদ সাইদ এবং কবি প্রদীপ মিত্র। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী কামাল মিনা এবং ফারহানা পারভীন হক তৃণা। আজ ছিল আরিফুজ্জামান চয়নের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘উদ্ভাস নৃত্যকলা একাডেমি’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফারাহ দিবা খান লাবণ্য, সুষ্মিতা দেবনাথ সূচি, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, গার্গি ঘোষ, শার্লি মার্থা রোজারিও এবং মো. রেজওয়ানুল হক।
খবরওয়ালা/আরডি