খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কঠোর নিরাপত্তায় নিউইয়র্কে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে ব্রুকলিনের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) রাখা হবে। এখান থেকেই মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কারাগারটি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ও আলোচিত বন্দীদের রাখার জন্য পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজ নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখানে এফবিআই ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে হেফাজতে নেন। পরে হেলিকপ্টারে করে তাঁকে ম্যানহাটনের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে আনা হয় এবং প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ)-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপরই তাঁকে ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এমডিসি ব্রুকলিনে এর আগেও বহু আলোচিত আসামিকে রাখা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন পপ তারকা আর কেলি, যৌন অপরাধ মামলার অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগীতশিল্পী শন ‘ডিডি’ কম্বস। ফলে মাদুরোর সেখানে রাখা হওয়া বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মাদুরোর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কে নামতে দেখা যায়নি। যদিও হোয়াইট হাউস আগেই দাবি করেছিল, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী দুজনকেই আটক করা হয়েছে। মাদক পাচার ও কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। তবে ফ্লোরেসের অবস্থান নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাদুরোকে আটক করার অভিযানে কিউবার নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কিউবান নিরাপত্তাকর্মীরা মাদুরোকে রক্ষার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরেই কিউবা ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মাদুরোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিউবান উপদেষ্টা ও দেহরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে বেআইনি ও শক্তির অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মাদুরোকে একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। তাঁর মতে, আজ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গেই ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চললে ভেনেজুয়েলায় সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না। তবে এই বক্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা করে রদ্রিগেজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না।
মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভও দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, বোস্টন ও মিনেপোলিসসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আটক ব্যক্তির নাম | নিকোলা মাদুরো |
| বর্তমান অবস্থান | মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার, ব্রুকলিন |
| অভিযোগ | মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র |
| মামলা দায়ের | ২০২০ সালে, নিউইয়র্ক সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | ভেনেজুয়েলার তীব্র প্রতিবাদ, বৈশ্বিক উদ্বেগ |
সব মিলিয়ে, নিকোলা মাদুরোকে আটক ও নিউইয়র্কে স্থানান্তরের ঘটনা শুধু একটি আইনি বিষয় নয়; এটি লাতিন আমেরিকার রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার সমীকরণে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।