বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মতিন সরকারকে আদালতে হাজির করার সময় তাকে মারধর ও পচাঁ ডিম নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ জনগণ। এসময় মতিনের শ্যালক মিল্লাত হোসেন ও তার এক সহযোগীকে আদালত চত্বরে গণধোলাই দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মতিনের শ্যালক উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
রবিবার (২২ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে শনিবার (২১ জুন) রাত ১১টার দিকে মতিন সরকারকে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গত ১১ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলায় মতিন সরকারকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যুবদল নেতা ইমরানসহ ৫টি হত্যা মামলা ও ২০টি মামলা আদালতে চলমান আছে।
রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের কড়া প্রহরায় মতিন সরকারকে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে আসা হয়। পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে একদল বিক্ষুব্ধ লোকজন তার উপর পচাঁ ডিম নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ তাড়াহুড়ো তাকে আদালতের দিকে নিয়ে যেতে থাকে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই হামলা করে কিল ঘুষি ও লাথি মারা হয় মতিন সরকারকে।
এসময় মতিনের এক সহযোগী রুমপ হামলার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করলে বিক্ষুব্ধ লোকজন তার উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। রুমপ দৌড়ে আদালতের নিচে নেমে পালিয়ে যায়।
এসময় আদালত চত্বরে মতিন সরকারের শ্যালক মিল্লাত হোসেনকে দেখে লোকজন তার উপর হামলা করে। তাকে মাটিতে ফেলে লোকজন এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ইকবাল বাহার বলেন, ‘আমরা কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে তাকে আদালতে নিয়ে যাই। আগে থেকেই আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা আকস্মিক ভাবে ডিম নিক্ষেপ করে। আমরা দ্রুত মতিন সরকারকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এ হাজির করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে মতিন সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একটি হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান শুনানী শেষে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে পুলিশ প্রহরায় মতিন সরকারকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।’
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) হাসান বাসির বলেন, ‘আদালত চত্বরে মতিন সরকারের শ্যালক পরিচয় পেয়ে একজনকে মারধর করছিল কিছু জনগন।আমরা তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে এসেছি। তার নামে মামলা আছে কি না যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এসআর