খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাজিল ফুটবল মানেই শৈল্পিক ছন্দ আর গোলের মেলা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেলেসাওদের সেই চিরচেনা রূপটি যেন কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগের গোল খরা এবং হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সফল এই দলটির সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতেও দলের সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দিহান নন চেলসি ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো। তার বিশ্বাস, বর্তমান ব্রাজিল দলেও রোনালদো, রোনালদিনিও বা রোমারিওর মতো কালজয়ী তারকাদের উত্তরসূরি হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে পরাজয়ের পর ব্রাজিলের খেলার ধরন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ম্যাচের এক পর্যায়ে গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকেরা নেইমারের নাম ধরে স্লোগান দিতে শুরু করেন, যা বর্তমান দলের প্রতি তাদের অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডরা মাঠে থাকলেও জাল খুঁজে পেতে তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামলে ক্লাব ফুটবলের সেই চেনা ছন্দ কেন হারিয়ে যায়, তার একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন জোয়াও পেদ্রো। তার মতে, খেলোয়াড়রা ভিন্ন ভিন্ন লিগ এবং পরিবেশে খেলে অভ্যস্ত হওয়ায় জাতীয় দলে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। ক্লাবে সারা বছর একসাথে অনুশীলনের সুযোগ থাকলেও জাতীয় দলে সেই সুযোগ সীমিত। তিনি আশাবাদী যে, একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে শুরু করলে মাঠের রসায়ন বদলে যাবে এবং দল আবারও জয়ের ধারায় ফিরবে।
ব্রাজিলের বর্তমান আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে তাদের গোল করার পরিসংখ্যান কিছুটা হতাশাজনক। নিচে বর্তমান কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | বর্তমান ক্লাব | ম্যাচ সংখ্যা | গোল সংখ্যা |
| নেইমার জুনিয়র | সান্তোস | ১২৮ | ৭৯ |
| ভিনিসিয়ুস জুনিয়র | রিয়াল মাদ্রিদ | ৪৬ | ০৮ |
| রাফিনিয়া | বার্সেলোনা | ৩৬ | ১১ |
| জোয়াও পেদ্রো | চেলসি | ০৭ | ০২ |
| গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি | আর্সেনাল | ১৫ | ০২ |
২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছর কেটে গেলেও ব্রাজিল এখনো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেনি। পেদ্রোর মতে, এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর একটি মানসিক চাপ তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, রিয়াল মাদ্রিদে ভিনির দাপট কিংবা বার্সেলোনায় রাফিনিয়ার নৈপুণ্য প্রমাণ করে যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। সমস্যা কেবল এই পাহাড়সম প্রত্যাশার চাপ সামলে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।
আগামীকাল ভোর ছয়টায় (বাংলাদেশ সময়) অরল্যান্ডোয় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া আনচেলত্তির শিষ্যরা। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস এবং রাফিনিয়ার কাঁধেই থাকবে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব। অন্যদিকে মাঝমাঠের দখল নিয়ে আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনায় হয়তো কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারেন অভিজ্ঞ কোচ আনচেলত্তি।
ব্রাজিল ভক্তদের প্রত্যাশা, কেবল নামেই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও বর্তমান তারকারা রোনালদো-রোনালদিনিওদের মতো দাপট দেখিয়ে হলুদ জার্সির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবেন।