খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান আন্দোলনের সময় দাপ্তরিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও চারজন কর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে, যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়।
বরখাস্ত কর্মকর্তারা হলেন—সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, মোংলা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আলা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান, চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির যুগ্ম কমিশনার সানোয়ারুল কবির এবং খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম।
গত দেড় মাসে আন্দোলনের জেরে এনবিআরের সদস্য থেকে শুরু করে প্রহরী পর্যন্ত মোট ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
আইআরডি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান চার কর্মকর্তার বরখাস্তের পৃথক চারটি আদেশে সই করেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ জারির পর আন্দোলন চলাকালে এসব কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের কাজে বাধা দেন এবং আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করেন। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারায় তাঁদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এনবিআর সূত্র জানায়, মে-জুনে হওয়া আন্দোলনে বরখাস্ত কর্মকর্তারা সক্রিয় ছিলেন এবং কেউ কেউ নেতৃত্বও দিয়েছেন। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে রাজস্ব খাতে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে এই কর্মসূচি চলে। ২৮ ও ২৯ জুন রাজস্বকর্মীরা সারা দেশে কাজ বন্ধ রাখেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহারের পর থেকেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু হয়। এরই মধ্যে তিন সদস্য ও এক কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এনবিআরের দুই সদস্যসহ ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত চলছে। ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি হলে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা চলে প্রায় দেড় মাস।
খবরওয়ালা/এন