খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৬ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। এ উদ্দেশ্যে তিনি প্যারোলে মুক্তির আবেদনও জানিয়েছেন। বুধবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর বোন নওরীন খান বিষয়টি জানান। খবর জিও নিউজের।
নওরীন সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন এবং তিনি আলোচনার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। ৭১ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক মামলা চলমান।
ইমরানের এই প্রস্তাব আসে এমন এক সময়, যখন পাকিস্তানি বাহিনী সম্প্রতি আফগান বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা প্রতিহত করেছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে অভিযান চালায়, তার আগে আফগান বাহিনী সীমান্তে গুলি চালায়। তবে দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর।
নওরীন খান জানান, ইমরান আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চান এবং এজন্যই তিনি অস্থায়ীভাবে মুক্তি চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইমরান খান আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে কষ্ট পেয়েছেন’ এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান।
এ সময় পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান নাগরিকদের জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনাতেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই পিটিআই ও ইমরান খান নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান খান আফগানিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের দেশে বসবাসের সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে তাঁর সরকার পতনের পর এসব বসতি উচ্ছেদ করা হয়।
পিটিআই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, আলোচনার উদ্যোগটি কেবল রাজনৈতিক প্রস্তাব ছিল, বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বারবার বলেছেন, আফগানিস্তানের মাটি যেন পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ব্যবহার না হয়, সে জন্যই তিনি তালেবান সরকারের সঙ্গে সংলাপের পক্ষে।
খবরওয়ালা/এন