খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, বাকিটা আল্লাহর হাতে। আমরা যদি পুরোপুরি কামিয়াব হই তাহলে আপনারা দেখবেন। আমরা চেষ্টা করেছি আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার কিন্তু পারিনি। আগুনের ভয়াবহতা এতোবেশি যে কিছু করার ছিলো না।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ের সময় ইপিজেডের পাঁচ নম্বর রোড়ের অ্যাডামস ক্যাপ কারখানার অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে এসব কথা জানান, ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন।
তিনি আরও জানান, আমরা ভবনটিতে যেসব প্রবেশ পথ ব্যবহার করার কথা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছিনা। উপরের ফ্লোরের আগুন খণ্ড খণ্ড হয়ে নিচে পড়ছে। এতে নিচের ফ্লোরগুলোর দাহ্যবস্তুতে আগুন লেগে যাচ্ছে। প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ রয়েছে ভবনটিতে।
এরপরও আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। ভবনের সামনের দিকে, পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে আগুন নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। উত্তর পাশে আরেকটি ভবন আছে। সেটার কারণে আমাদের গাড়ি ঢুকতে পারেনি। সেখানে দাহ্য বস্তু আছে প্রচুর। বাতাসের তীব্রতাও প্রচুর।
বাতাসের কারণে উপরের আগুন নিচে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছে। কামিয়াব হলে আপনারা দেখবেন। কিন্তু আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ইপিজেডের পাঁচ নম্বর রোড়ে অ্যাডামস ক্যাপ কারখানার সপ্তম তলায় আগুন লাগে। পরে আগুন আটতলা ভবনটির সবকটি ফ্লোরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে৷ ভবনটিতে হাজারের বেশি পুরুষ ও নারী শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন৷
তবে আগুন লাগার সাথে সাথে ফায়ার এলার্ম বেজে ওঠায় শ্রমিকরা দ্রুত সরে পড়েন৷ এ সময় তড়িঘড়ি করে ভবন ছাড়তে গিয়ে অনেকে আহত হন। ভবনটিতে অ্যাডামস ক্যাপ ছাড়াও একটি চায়না কোম্পানি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরি করতো। ওই ভবনের পাশে আদম টেক্সটাইল ও আল হামিদি টেক্সটাইল রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি শিল্প কারখানার অবস্থান সেখানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল খসে পড়ছে। বাতাসে কাপড়ের রোলের টুকরো আগুনসহ উড়ছে। বিকট শব্দে দেওয়াল, জানালাসহ বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে৷ পুরো আটতলা ভবনটি অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে৷ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রোবট দিয়ে পানি ছিটাচ্ছেন৷
এছাড়াও টিটিএল ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু অবস্থা এমন যে ভবনটি পুড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। কারো কিছু করার নেই। ভেতরে থাকা কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ২০০ মিটার দূরত্বেেও আগুনের তাপে কেউ দাঁড়াতে পারছে না৷
জানা যায়, কারখানাটি ফিরোজ নামে পাকিস্তানি একজন ব্যবসায়ীর৷ তবে তিনি আমেরিকায় বসবাস করেন৷ এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা একটি বিশেষ টিম আনা হয়েছে। তারা জ্বলন্ত ভবনটি ঘুরে দেখছেন৷ কিভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তা বের করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, আমরা চেষ্টা করছি যেন আশেপাশের ভবনগুলো অক্ষত থাকে। এটা ছাড়া আমাদের এখন আর কিছু করার নেই। এসময় পানি সংকটের কথাও জানানো হয় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে।
অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কম নয়৷ এরপরও ফায়ার সার্ভিস এসব থেকে শিক্ষা নেয় না। ইপিজেড এলাকায় যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে সেখান থেকে অল্প দূরত্বে সমুদ্র। কিন্তু সে পানি ব্যবহার করে আগুন নেভানো যাচ্ছে না। ১০ ঘণ্টা ধরে বড় ভবন বলতে থাকলেও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়নি।
খবরওয়ালা/আশ