খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্য এবং আমেরিকার শুল্ক কাঠামো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতও ওয়াশিংটনের পারস্পরিক শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে না।
সম্প্রতি ফক্স নিউজের শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ বিষয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ সময় ইলন মাস্কও উপস্থিতি ছিলেন। এনডিটিভির খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলেছি—তিনি এখানে ছিলেন—আমি বললাম, ‘আমরা পারস্পরিক শুল্ক চালু করব। আপনারা যা নেবেন, আমরাও তাই নেব।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি (মোদি) বললেন, ‘না, না, এটা আমি পছন্দ করি না।’ আমি বললাম, ‘না, না, আপনারা যা নেবেন, আমরাও তাই নেব।’ আমি সব দেশের সঙ্গেই এটা করছি।’
উল্লেখ্য যে, ভারত তার দেশে আমদানিকৃত মার্কিন পণ্যের ওপর বিশ্বের অন্যতম উচ্চ শুল্ক আরোপ করে থাকে। বিশেষ করে অটোমোবাইল খাতে। যেখানে বিদেশি গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়।
সে সময় ট্রাম্পের পাশে বসে থাকা ইলন মাস্ক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এটা ১০০ শতাংশ—গাড়ি আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা কিছুই না। আরও অনেক বেশি আছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও।’
তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, এ ধরনের উচ্চ শুল্কের কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতে পণ্য বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যদি না তারা সেখানে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করে। ট্রাম্প এমন পরিস্থিতিকে আমেরিকার অর্থনীতির জন্য ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থার অধীনে ভারতীয় পণ্যের ওপর ঠিক ততটাই শুল্ক আরোপ করা হবে, যতটা ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপ করে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সঙ্গে কেউ তর্ক করতে পারবে না। যদি আমি বলি ২৫ শতাংশ, তারা বলবে, ‘ওহ, এটা ভয়ংকর।’ আমি আর এটা বলি না… কারণ আমি বলি, ‘তারা যা নেবে, আমরাও তাই নেব।’ আর তারপরেই তারা তখন থেমে যায়।’
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের পর, উভয় দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২৫ সালের শরৎকালে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রথমবার যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, সেই সময়ও ভারতকে ‘শুল্কের রাজা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর আরও আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্পের। চড়া শুল্কের পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সেই নিয়ে সম্প্রতি মোদির সঙ্গে বৈঠকও হয় তার। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। উল্টো ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি