খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে কার্তিক ১৪৩২ | ২২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিতর্কিত ইউপি সদস্য সোহাগ মৃধা আবারও আলোচনায় এসেছে। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, “আমি বিএনপি করি, তবে শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে এযাবৎ কাজ করেছি। আমি বিএনপি করে শ ম রেজাউলের আমলে মামলায় জেল খেটেছি। এমনকি আমাকে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগে নিজের ঘরে আগুন দিয়ে ভাই ও চাচাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে সোহাগ মৃধা আগে থেকেই সমালোচিত। তাঁর ভাই ও চাচা অভিযোগ করেন, ৫০ হাজার টাকা দিয়েও তারা সেই মামলার হয়রানি থেকে মুক্তি পাননি।
চাচা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, “ওয়ারিশ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে সোহাগ তার ভাইকে হয়রানি করত। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে চুরির মামলায় ফাঁসায়। পরে নিজের ঘরে আগুন দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। তখনও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রেহাই দেয়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে সোহাগ মৃধা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো, সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অপকর্মে তিনি জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি বিএনপি পরিচয়ে সক্রিয়।
বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ হোসেন বলেন, “সোহাগ মৃধা কেমন মানুষ, তা সবাই জানে। একসময় সে আমার বাবাকেও হয়রানি করেছে।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফকরুল আলম বলেন, “শুনেছি সোহাগ মৃধা আগে আওয়ামী লীগ করতেন। এখন কীভাবে বিএনপি করলেন, জানি না। শুধু নিজেকে বিএনপি বলা যথেষ্ট নয়; তিনি আমাদের দলের কেউ নন।”
সোহাগ মৃধা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমি কাউকে মিথ্যা মামলা দিইনি। আমি বিএনপি করি, তবে শেখ হাসিনার আদর্শে বিশ্বাসী। ইউপি সদস্যদের নির্দিষ্ট দল নেই—যে সরকার আসে, তার হয়ে কাজ করি।”
খবরওয়ালা/এমএজেড