খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
বাংলাদেশের আলোচিত গোপন নির্যাতন কেন্দ্র ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও লেখক কেরি কেনেডি। সেখানে দীর্ঘ আট বছর ধরে গুম অবস্থায় থাকা মীর আহমাদ বিন কাশেমের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এই সময় নিজের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন মীর আহমাদ, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি কেরি কেনেডিও।
মঙ্গলবার (১৩ মে) ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন তিনি। বুধবার (১৪ মে) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই আবেগঘন সাক্ষাৎ ও ঘটনাবলির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
কেরি কেনেডি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট এফ. কেনেডির কন্যা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির ভাগ্নি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।
আয়নাঘর পরিদর্শনের সময় কেরি কেনেডি বলেন,‘আয়নাঘর শুধু একটি নির্যাতনকেন্দ্র নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রতীক। মীর আহমাদের মতো মানুষরা আমাদের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’
ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, কেরি কেনেডি আয়নাঘরে সেই নির্জন ঘরে মীর আহমাদের সঙ্গে সময় কাটান, যেখানে তিনি আট বছর ধরে বন্দি ছিলেন অন্ধকার ও নির্যাতনের মধ্যে। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মীর আহমাদ, আর কেরি তাকে সান্ত্বনা দেন সহমর্মিতায়।
তিনি আরও লেখেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে— তার বিরুদ্ধে কেরি কেনেডি বিশ্বজুড়ে সচেতনতা গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। আরএফকে সেন্টারের মাধ্যমে তিনি বারবার নিখোঁজদের মুক্তি এবং বিচার দাবি করে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
শফিকুল আলম জানান, কেরি কেনেডির আন্তর্জাতিক সক্রিয়তা ও চাপের কারণেই মীর আহমাদ বিন কাশেম ‘আয়নাঘরের’ মতো ভয়ংকর বন্দিশালায় বেঁচে থাকতে পেরেছিলেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ ও সচেতনতা বৃদ্ধির নতুন গতি পেতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।
খবরওয়ালা/আরডি