খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য বর্তমান সময়টা যেন অবিশ্বাস্য আনন্দের এক অধ্যায়। অনেকেই হয়তো গায়ে চিমটি কেটে দেখছেন—এটা সত্যি তো? কারণ, মাঠে ও পরিসংখ্যানে আর্সেনাল যা করে চলেছে, তা দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পাওয়া এক পরিপূর্ণ স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছে। এই সাফল্য কোনো হঠাৎ ঝলক নয়; বরং ধারাবাহিকতা, পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাসের ফল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২৩ ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা দলটিকে ‘ইদানীং ভালো করছে’ বলা আসলে কম বলা। এমন ছন্দ হঠাৎ আসে না। লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে ইউরোপের মঞ্চেও আর্সেনাল দেখাচ্ছে সমান দাপট। চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন লিগ-পর্ব সংস্করণে তারা যে নিখুঁত পথচলা দেখিয়েছে, তা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়ার মতোই।
গত রাতে কাজাখস্তানের ক্লাব কাইরাতকে ৩–২ গোলে হারিয়ে লিগ পর্ব শেষ করেছে মিকেল আরতেতার দল। এর মধ্য দিয়ে আট ম্যাচের আটটিতেই জয়—একেবারে ‘পারফেক্ট’ রেকর্ড। এই পর্বে আর্সেনাল গোল করেছে সর্বোচ্চ ২৩টি, আর হজম করেছে সবচেয়ে কম—মাত্র ৪টি। আক্রমণ ও রক্ষণের এই ভারসাম্যই আরতেতার দলের বড় শক্তি।
এই ম্যাচটি আরতেতার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও স্মরণীয়। আর্সেনাল কোচ হিসেবে এটি ছিল তাঁর ৩২৬তম ম্যাচ, আর সেই ম্যাচেই পেলেন ২০০তম জয়। পরিসংখ্যানের ভাষায় এটি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং ক্লাব সংস্কৃতিতে তাঁর প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ।
নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৬ দলের লিগ পর্বে দ্বিতীয় মৌসুমেই প্রথম দল হিসেবে সব ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ল আর্সেনাল। একই সঙ্গে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে ন্যূনতম টানা আট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছুঁয়েছে। সিটি ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ ম্যাচ জিতেছিল—এখন সেই মানদণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
কাইরাতের বিপক্ষে ম্যাচে আরতেতা রোটেশনের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে ১১টি পরিবর্তন এনে নামানো হয় নতুন দল। সবচেয়ে আলোচিত ছিল কাই হাভার্টজের প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে দীর্ঘ ৩৫৭ দিন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকা এই জার্মান মিডফিল্ডার গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। তাঁর পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।
আরতেতার কণ্ঠে ম্যাচশেষে তাই ছিল আত্মতৃপ্তির ছাপ। দলকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে তিনি জানান, শেষ ষোলোর আগে পাওয়া এই পারফেক্ট লিগ-পর্ব মানসিকভাবে বড় শক্তি জোগাবে। শীর্ষ দুইয়ে থেকে শেষ করায় নকআউট পর্বে ফিরতি লেগগুলো ঘরের মাঠে খেলার সুবিধাও পাবে আর্সেনাল—যা ইউরোপীয় মঞ্চে বড় ফ্যাক্টর।
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| ম্যাচ | ৮ |
| জয় | ৮ |
| গোল scored | ২৩ |
| গোল হজম | ৪ |
| গোল ব্যবধান | +১৯ |
| টানা জয় (ইউরোপে) | ৮ |
সব মিলিয়ে, আর্সেনাল এখন আর কেবল সম্ভাবনার গল্প নয়। তারা বাস্তব সাফল্যের পথে হাঁটছে—পরিকল্পিত, আত্মবিশ্বাসী এবং ক্ষুধার্ত এক দল হিসেবে। সমর্থকেরা চাইলে গায়ে চিমটি কাটতেই পারেন, তবে বাস্তবতা হলো—এই আর্সেনাল সত্যিই দুর্দান্ত।