খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত বৈঠককে ঘিরে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। যদিও পরিবেশ ছিল উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ, কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু বিষয় আড়াল করার চেষ্টা, মধ্যাহ্নভোজ বাতিল এবং অর্জন নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই মূল আলোচনার সারাংশ অনুমান করতে হচ্ছে। আরটির বিশ্লেষণ বলছে, বৈঠকের ভেতরের কোনো তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করেননি অংশগ্রহণকারীরা।
যা জানা গেছে, উভয় নেতা শান্তি চুক্তির বেশ কিছু শর্তে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এলাকা বিনিময়ের প্রশ্নে কোনো সমাধান আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও যুক্ত করতে। এজন্য তাকে আহ্বান জানানো হলেও এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। পরবর্তী বৈঠক মস্কোতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিললেও ট্রাম্প সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকের নীরবতা আসলে গোপনীয়তার ইঙ্গিতও হতে পারে। হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, আবার এটাও সম্ভব— ওয়াশিংটন ও ক্রেমলিন সমঝোতায় পৌঁছেছে কিন্তু তৃতীয় পক্ষের কারণে তা প্রকাশ পায়নি। পুতিন পরিষ্কার বলেছেন, কেবল যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়, পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির সময় এসেছে। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া দেখেই অনুমান করা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র নীরবে রাশিয়ার অবস্থান মেনে নিয়েছে। ফলে এই পর্যায়ে কিয়েভ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নই মূলত পিছিয়ে পড়েছে।
এখন পরবর্তী পদক্ষেপ জেলেনস্কির হাতে। যদি আলাস্কা বৈঠকে মূল কাঠামোয় সমঝোতা হয়ে থাকে, তবে অঞ্চল ছাড় বা আলোচনায় ইউরোপীয় ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তোলার সুযোগ কিয়েভ ও পশ্চিম ইউরোপীয়দের। এজন্য ট্রাম্পকে তাদের রাজি করাতে হবে। গতকালই জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে পৌঁছে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আলোচনার শর্তগুলো নিয়ে মতামত জানাতে পারেন এবং ইউরোপীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি তুলতে পারেন। না হলে আগের মতো মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড