খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পরবর্তী দিনগুলোতেও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে আল আকসা মসজিদ মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদটির প্রশাসন সম্পর্কিত সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই আল আকসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ইসলামী ওয়াকফ কমিটিকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করেছে।
সূত্র জানায়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার অজুহাতে চলতি মাসের শুরু থেকেই মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলছেন এবং অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার আড়ালে আল আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ১৯৬৭ সালের পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এটি প্রথম রমজান, যেখানে ফিলিস্তিনিরা জুমার নামাজ আদায় করতে পারছেন না। এই ঘটনা মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
মসজিদ বন্ধ থাকায় প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মী প্রবেশ করতে পারছেন। অতিরিক্ত একজন কর্মী প্রবেশের আবেদনও ইসরায়েলি পুলিশ বাতিল করেছে। ওয়াকফ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কর্মী সংখ্যা বাড়লে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। এছাড়া মসজিদের প্রধান নামাজের হল ও ডোম অব দ্য রকের ভিতরে গোপন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জেরুজালেমের পুরোনো শহর কার্যত অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একদিকে শহরের ভেতরে শান্তিপূর্ণ জনজীবন প্রায় নেই, অন্যদিকে তার ঠিক বাইরে স্বাভাবিক জীবন চলছে।
গত রোববার পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে আল আকসার সব প্রবেশপথে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। ফলে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামাজ আদায় করেন। আল আকসার অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবু সোয়ে উল্লেখ করেছেন, যদি নিরাপত্তার বিষয়টি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হতো, তবে মসজিদের ভূগর্ভস্থ স্থানগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা যেত।
ওয়াকফ কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাযবায সতর্ক করেছেন, সাময়িক অজুহাতের এই বিধিনিষেধ স্থায়ী রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে না। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে আল আকসার ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাটাস কু’ লঙ্ঘন করে আসছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মসজিদ বন্ধের সময়কাল | চলতি মাসের শুরু থেকে ঈদ পর্যন্ত |
| প্রবেশযোগ্য কর্মীর সংখ্যা | প্রতিটি শিফটে ২৫ জন ওয়াকফ কর্মী |
| নামাজের অনুমতি | স্থানীয় মুসল্লিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা | গোপন নজরদারি ক্যামেরা, পুলিশ মোতায়েন |
| পুরোনো শহরের অবস্থা | কার্যত অবরুদ্ধ, জনশূন্য এলাকা |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ, ওয়াকফ কর্মকর্তাদের সতর্কতা |
মসজিদের এই স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনা যায় না, কিন্তু ইসরায়েলের চলমান পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।