ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ১৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। রবিবার, রমজানের পবিত্র লাইলাতুল কদরের দিনেও ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখে। সাধারণত রমজানের ২৭তম রাত এই মসজিদে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি নামাজ ও ইতিকাফের মাধ্যমে রাত কাটান। তবে এবছর মসজিদ ও তার প্রাঙ্গণ এক অদ্ভুত নীরবতায় মোড়া।
মসজিদের অলিগলিতে ইসরায়েলি টহলদার বাহিনী অবস্থান নিয়েছে, আর মুসল্লিরা মসজিদের আশেপাশের এলাকা থেকে নামাজ পড়ছেন। দ্য প্যালেস্টাইন ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, ১৯৬৭ সালের জেরুজালেম দখলের পর এটি প্রথমবারের মতো রমজানের শেষ দশকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ ও ইতিকাফে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি রমজানের শেষ শুক্রবারের নামাজও মসজিদ বন্ধ থাকায় সম্পন্ন হয়নি।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী পুরনো শহরকে সামরিক ব্যারাকে পরিণত করেছে এবং আশেপাশে শত শত সৈন্য মোতায়েন করেছে। ফলে মুসল্লিরা বাব আল-সাহিরা ও বাব আল-আমুদ এলাকায় এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করতে বাধ্য হয়েছেন।
আরব লিগ এই পদক্ষেপকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক আইন ও আল-আকসা/হারাম আল-শরিফের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। আরব লিগ আরও বলেছে, “দখলদার ইসরায়েলের ১৯৬৭ সালে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কোনো সার্বভৌমত্ব নেই, যার মধ্যে রয়েছে অধিকৃত জেরুজালেম শহর এবং এর ইসলামিক ও খ্রিস্টীয় পবিত্র স্থানগুলো।”
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরব লিগ বলেছে, তারা যেন দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে, ইসরায়েলের এই আইনি লঙ্ঘন বন্ধ করে, ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার পুনঃস্থাপন করে এবং ধর্মীয় উপাসনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বন্ধের সময়কাল | ১৭ দিন |
| বিশেষ দিন | লাইলাতুল কদর, শেষ জুমার নামাজ |
| মুসল্লিদের বিকল্প নামাজ স্থল | বাব আল-সাহিরা, বাব আল-আমুদ |
| টহলদার বাহিনী | ইসরায়েলি সেনা, পুরনো শহর ও মসজিদ অলিগলিতে |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | আরব লিগ নিন্দা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান |
এই পরিস্থিতি পুরো ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী এবং বিশ্ব মুসলমানদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষত রমজানের শেষ দশকে মসজিদে নামাজ পড়া ও ইতিকাফ বন্ধ থাকা ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।