আসামির খাবারের টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলা সাবেক পুলিশের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্ত ব্যক্তি নগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান এবং তাঁর স্ত্রী সায়মা হাসান। দুদক জানিয়েছে, তাঁদের সম্পদের প্রকৃত উৎস, পরিমাণ এবং আরও কোনো গোপন সম্পদ আছে কি না, তা বিস্তারিত তদন্তের আওতায় আনা হবে।

দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে বুধবার সন্ধ্যায় মামলাগুলো দায়ের করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ। তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানেই দম্পতির নামে বিপুল পরিমাণ অপ্রকাশিত সম্পদের প্রমাণ মিলেছে, যা আইনগতভাবে ব্যাখ্যাহীন।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে “আসামির খাবারের টাকা পুলিশের পকেটে” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম আদালতের হাজতখানায় আসামিদের জন্য বরাদ্দ খাবারের সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে আদালত প্রাঙ্গণে সরকারি খরচে খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়।

পরবর্তী সময়ে দুদক কামরুল হাসানের সম্পদ নিয়ে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ২০২৪ সালের ৯ জুলাই তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর রোধে আদালতে ক্রোকের আবেদন করা হয়, যা আদালত অনুমোদন দেয়।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে যে, কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালে উপপরিদর্শক হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে তিনি বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় একটি বাড়ি, খুলশী এলাকায় ডিআইজি কার্যালয়ের পাশে ২ হাজার ৫৭০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং অনন্যা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট রয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার সাভারে দুটি বাণিজ্যিক মার্কেটেও তাঁর মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে এবং কিছু তথ্য গোপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী সায়মা হাসানের নামে চারটি নৌযান থাকার তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যা আয়বহির্ভূত সম্পদের ইঙ্গিত বহন করে।

নিচের সারণিতে প্রাথমিকভাবে পাওয়া সম্পদের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

সম্পদের ধরন অবস্থান আনুমানিক মূল্য মালিক
আবাসিক বাড়ি পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম কয়েক কোটি টাকা কামরুল হাসান
ফ্ল্যাট খুলশী, চট্টগ্রাম কয়েক কোটি টাকা কামরুল হাসান
প্লট অনন্যা আবাসিক এলাকা উল্লেখযোগ্য মূল্য কামরুল হাসান
বাণিজ্যিক মার্কেট সাভার, ঢাকা উচ্চ মূল্যমান কামরুল হাসান
নৌযান বিভিন্ন স্থান অপ্রকাশিত সায়মা হাসান

দুদক জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রমাণ মিললে আরও সম্পদ জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্থাটি মনে করছে, অনুসন্ধান শেষে এই দম্পতির প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।