খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
“মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!”এই অমর পঙ্ক্তিটি উচ্চারণ করলেই যে নামটি শ্রদ্ধাভরে স্মরণে আসে, তিনি কবি, গীতিকার, সুরকার ও সংগীতজ্ঞ অতুলপ্রসাদ সেন— বাংলা গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন। বাংলা সঙ্গীতের প্রধান পাঁচ স্থপতির অন্যতম এবং বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তকও তিনি। তাঁর সৃষ্ট সংগীত বাঙালির হৃদয়ে চিরকালীন অনুরণন জাগিয়ে রাখবে।
১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর, ঢাকার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন অতুলপ্রসাদ সেন। তাঁর আদি নিবাস শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার মগর গ্রামে। শৈশবে পিতৃহারা হয়ে মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের কাছে বড় হন, আর সেখান থেকেই তাঁর সংগীত ও ভক্তিমূলক গানের হাতেখড়ি।
১৮৯০ সালে প্রবেশিকা পাসের পর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে কিছুদিন অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডনে গিয়ে আইন পড়েন। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি জীবন উৎসর্গ করেন সঙ্গীত ও সাহিত্যের সাধনায়।
বাংলা ভাষা ও সঙ্গীত জগতে অতুলপ্রসাদ ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর গানগুলিকে মূলত তিন ধারায় ভাগ করা যায়— স্বদেশি গান, ভক্তিগীতি ও প্রেমের গান। তবে তাঁর জীবনের বেদনাবিধুর সুর প্রায় সব গানের মাঝেই প্রতিফলিত হয়েছে; তাই তাঁর সৃষ্টির আবেগ প্রায়শই করুণ রসে সিক্ত।
রবীন্দ্রনাথের প্রতাপময় সময়েও নিজের স্বতন্ত্র সংগীতধারা সৃষ্টি করে তিনি প্রমাণ করেছেন তাঁর মৌলিকতা। সংখ্যা মাত্র ২০৬ হলেও প্রতিটি গানেই আছে গভীর সুর, সহজ ভাষা ও অনবদ্য আবেগের মিশেল— যা তাঁকে করেছে অতুলপ্রসাদের গান নামে এক স্বতন্ত্র ঘরানার স্রষ্টা।
তিনি ছিলেন প্রবাসী বঙ্গ সাহিত্য সম্মিলন-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপত্র ‘উত্তরা’-এর সম্পাদক। এছাড়া কানপুর ও গোরখপুর অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
যদিও রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেননি, তিনি ছিলেন উদারনৈতিক চিন্তার মানুষ— সমাজ ও মানবকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ। জীবনের উপার্জিত অর্থ, এমনকি তাঁর বাসগৃহ ও গ্রন্থস্বত্বও জনকল্যাণে দান করে গেছেন।
১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট, তিনি চিরবিদায় নেন। তাঁর দেহ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ব্রহ্ম মন্দিরের পাশে সমাহিত করা হয়।
বাংলা গানের ইতিহাসে অতুলপ্রসাদ সেন এক অবিস্মরণীয় নাম—
বাংলার মাটির গন্ধ, ভাষার গৌরব, ও হৃদয়ের কোমল অনুভবের এক চিরন্তন প্রতিধ্বনি।
খবরওয়ালা/এমএজেড