খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রসমর্থিত ও বিতর্কিত ওয়েবসাইট ‘মিরোতভোরেৎস’ (Myrotvorets) তাদের তথাকথিত ‘কিল লিস্ট’ বা ‘হত্যা তালিকা’য় ইনফান্তিনোর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই ওয়েবসাইটটি মূলত তাদের দৃষ্টিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় শত্রুদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অবস্থান ফাঁস করার জন্য বিশ্বজুড়ে কুখ্যাত।
মিরোতভোরেৎস ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মানবিক আগ্রাসন’ চালিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, ফিফা সভাপতি রাশিয়াকে পদ্ধতিগতভাবে সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদানের পাশাপাশি ক্রেমলিনের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইনফান্তিনোকে দেশটির অন্যতম শ্রেষ্ঠ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’-এ ভূষিত করেছিলেন, যা এখন ইউক্রেনীয় পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বড় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের পর। সেখানে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, অদূর ভবিষ্যতে রুশ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফেরার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা ও বয়কট সমাজে কেবল ‘হতাশা ও ঘৃণা’র জন্ম দেয়। এই মন্তব্যের পরপরই ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিগা ফিফা সভাপতির এই অবস্থানকে ‘নৈতিকভাবে অধঃপতিত’ বলে কঠোর সমালোচনা করেন।
নিচে ফিফা সভাপতি বনাম ইউক্রেনীয় ওয়েবসাইটের বিরোধের মূল দিকগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| মূল বিষয় | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (সভাপতি, ফিফা) |
| তালিকাভুক্তকারী | মিরোতভোরেৎস (ইউক্রেনীয় ওয়েবসাইট) |
| প্রধান অভিযোগ | রাশিয়াকে সমর্থন, মানবিক আগ্রাসন ও প্রোপাগান্ডায় সহায়তা। |
| পুরস্কার বিতর্ক | ২০১৯ সালে পুতিন প্রদত্ত ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ পদক। |
| সাম্প্রতিক মন্তব্য | রুশ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সম্ভাবনার পক্ষে অবস্থান। |
| ওয়েবসাইটের কুখ্যাতি | ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও ‘ডেট অব এলিমিনেশন’ বা নির্মূলের তারিখের ঘর রাখা। |
মিরোতভোরেৎস নিজেকে একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে এর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এই ওয়েবসাইটটি বিশেষত ‘কিল লিস্ট’ নামে পরিচিত কারণ এর আগে এই তালিকায় নাম ওঠা একাধিক ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন কিংবা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সাইটটিতে প্রতিটি ব্যক্তির প্রোফাইলের নিচে একটি ফাঁকা ঘর রাখা হয়, যা ওই ব্যক্তিকে ‘এলিমিনেট’ বা নির্মূল করার তারিখ উল্লেখ করার জন্য বরাদ্দ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ফিফা এবং উয়েফা (UEFA) রুশ ক্লাব ও জাতীয় দলকে সকল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করে। রাশিয়া এই পদক্ষেপকে শুরু থেকেই অলিম্পিক চার্টারের লঙ্ঘন এবং বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করে আসছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, খেলাধুলাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কখনোই কাম্য নয়।
বর্তমানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্রীড়া বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি একদিকে যেমন ফিফার নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, অন্যদিকে একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রধানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।