ইন্দোনেশিয়ায় খনি ধসে নিখোঁজ সকল শ্রমিকের মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ার একটি খনি ধসে সেখানে আটকে পড়া সকল শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে খননকারী সংস্থা ফ্রিপোর্ট জানিয়েছে। গত ৫ অক্টোবর এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। 

সেন্ট্রাল পাপুয়ার মিমিকায় ফ্রিপোর্ট ইন্দোনেশিয়া কর্তৃক পরিচালিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভূগর্ভস্থ তামা ও স্বর্ণ খনি ‘গ্রাসবার্গ ব্লক কেভ’-এ বিশাল ভূমিধসের প্রায় এক মাস পরে এই দুঃখজনক সংবাদ প্রকাশিত হলো।

গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন কাদা এবং পাথর খনির অভ্যন্তরে নেমে আসে। বেশিরভাগ শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হলেও সাতজন ধ্বংসাবশেষে আটকে পড়েন। গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁরা হলেন, সেন্ট্রাল জাভার চিলাচাপের ৪৬ বছর বয়সী ইরাওয়ান এবং ইস্ট জাভার তুলুঙ্গাগুংয়ের ৩৭ বছর বয়সী উইগিহ হার্তোনো।

সর্বশেষ গতকাল রবিবার উদ্ধারকারী দলটি আরও তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি হলেন চিলির নাগরিক ভিক্টর বাসতিদা বালেস্টেরোস। সংস্থাটি জানিয়েছে, অন্য দুইজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এই সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও দু’জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

গ্রাসবার্গ খনিটির কার্যক্রম প্রায় এক মাস ধরে স্থগিত রয়েছে এবং ফ্রিপোর্ট-ম্যাকমোরান সতর্ক করেছে যে, তাদের সমন্বিত তামা ও সোনার বিক্রয় হ্রাস পেতে পারে। ফ্রিপোর্ট আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত চলছে। এছাড়া, ঘটনাটি মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতের কাজের পরিকল্পনা নির্ধারণে ইন্দোনেশিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করছে।

ফ্রিপোর্ট ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর টনি ওয়েনাস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমার এবং সংস্থার পক্ষ থেকে আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সহানুভূতি জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলের প্রতি ধৈর্য ও শক্তি প্রদান করুন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের কর্মীদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তাঁরা শুধু সহকর্মী ছিলেন না, তাঁরা আমাদের ফ্রিপোর্ট পরিবারের অংশ ছিলেন। তাঁদের চলে যাওয়া পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা নিহতদের পরিবারের পাশে আছে। মৃতদেহ শনাক্তকরণ এবং উদ্ধার-পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পূর্ণাঙ্গ সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনার ফলস্বরূপ, খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের খনি সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভূমিধসের পরপরই ফ্রিপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সকল খনন কাজ বন্ধ ঘোষণা করে এবং জানায় যে, ২০২৭ সালের আগে সেখানে কাজ পুনরায় শুরু হবে না। কারণ কাজ শুরুর পূর্বে নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং কাঠামোগত সংস্কারের কাজ চলবে।

সূত্র: রয়টার্স

খবরওয়ালা/টিএসএন

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।