খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের সিয়াউ দ্বীপে সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির কারণে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে ১৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র নুরিয়াদিন গুমেলেং জানিয়েছেন, বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় প্রধান সড়কগুলো পাথর, গাছের ডালপালা ও ঘন কাদায় ঢাকা থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে এবং রাস্তা পরিষ্কার করতে বেশ কয়েকটি ভারী এক্সকেভেটর মোতায়েন করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ৪৪৪ জন বাসিন্দাকে স্থানীয় স্কুল ও গির্জায় সরিয়ে রাখা হয়েছে। উত্তর সুলাওয়েসির গভর্নর ইউলিউস সেলভানাস জানিয়েছেন, বন্যায় কয়েকশ ঘরবাড়ি এবং সরকারি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সুলাওয়েসি ছাড়াও জাভা, মালুকু ও পাপুয়া দ্বীপে আরও ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধির পেছনে বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, খনিজ উত্তোলন এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের বড় ভূমিকা রয়েছে। পরিবেশবাদী সংস্থাগুলি মনে করিয়ে দিচ্ছে, এই ধরনের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড দেশে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি অঞ্চলে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বর্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। বন্যার সঙ্গে ভূ-পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে।
নিচের টেবিলে বন্যার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তথ্য সূচক | সংখ্যা/পরিমাণ |
|---|---|
| মৃতের সংখ্যা | ১৪ জন |
| নিখোঁজ | ৪ জন |
| গুরুতর আহত | ১৮ জন |
| আশ্রয়প্রাপ্ত | ৪৪৪ জন |
| উদ্ধারকারী দলের সদস্য | ১৬ জন |
| ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি | কয়েকশ |
| প্রধান সড়ক বন্ধ | হ্যাঁ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে |
গত নভেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বন্যা ও ভূমিধসে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যথাযথ বনসংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি না নিলে ভবিষ্যতেও এই ধরনের প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয় বৃদ্ধি পাবে।