খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ইফতারের আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু আমল করতে উৎসাহিত করেছেন। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। হাদিসে এসেছে—
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না: (১) ন্যায়পরায়ণ শাসকের, (২) রোজাদারের যখন সে ইফতার করে, (৩) মজলুমের দোয়া।
(তিরমিজি: ২৫২৫)
তাই ইফতারের আগে আল্লাহর কাছে নিজের ও অন্যদের জন্য দোয়া করা উচিত।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইফতার দ্রুত করতে বলেছেন।
তিনি বলেন: মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা ইফতারে বিলম্ব না করবে।
(বুখারি: ১৯৫৭, মুসলিম: ১০৯৮)
ইফতার করার আগে এই দোয়াটি পড়া সুন্নত:
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া বিকা আমান্তু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি, তোমার ওপর ঈমান এনেছি, তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।
(আবু দাউদ: ২৩৫৮)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইফতার করার জন্য খেজুর খেতে বলেছেন, তা না পেলে পানি পান করতে বলেছেন।
হাদিসে এসেছে:
রাসূল (সাঃ) তাজা বা শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন, যদি খেজুর না পেতেন তবে এক ঢোক পানি পান করতেন।
(আবু দাউদ: ২৩৫৬, তিরমিজি: ৬৯৬)
ইফতার করার পর দ্রুত মাগরিব সালাত আদায় করা সুন্নত। তাই ইফতারের আগে ওয়াজিব কাজগুলো সেরে নেওয়া ভালো।
যারা রোজাদারকে ইফতার করায়, তাদের জন্য রাসূল (সাঃ) বিশেষ ফজিলতের কথা বলেছেন—
তিনি বলেন:
যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সাওয়াবের সমান সাওয়াব পাবে, তবে রোজাদারের সওয়াব কমবে না।
(তিরমিজি: ৮০৭)
ইফতারের আগে বেশি বেশি দোয়া করা, ইফতারের জন্য খেজুর বা পানি গ্রহণ করা, দেরি না করে ইফতার করা, নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং অন্যকে ইফতার করানো— এগুলো রাসূল (সাঃ)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আদর্শ।