খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের পর বিচার করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, গত নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে তাদের মূলধারার রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নেওয়া থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ও দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসান এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে প্রধান ধারার রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নিতে দেওয়া হয়নি—যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগকে আরও জোরালো করে।
তাহেরের দাবি, রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে একটি রাজনৈতিক শক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে তিনি যে পরিস্থিতির কথা বলেছেন, তার বিস্তারিত জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। কারা কারা এতে জড়িত ছিলেন এবং কীভাবে নির্বাচন প্রভাবিত করা হয়েছে—তা পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া খলিলুর রহমানের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টারা নিরপেক্ষ থাকার এবং দলীয় সরকারের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করার নীতিগত অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু খলিলুর রহমান পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তাহের আরও অভিযোগ করেন, খলিলুর রহমান বিদেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন এবং তা সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের কিছু পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের আগে জামায়াত অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু সেই অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। এখন বিভিন্ন বক্তব্য ও ঘটনাপ্রবাহে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা–১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আইনজীবী শিশির মনির ও জাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
জামায়াত নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা জরুরি।