জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩ মে ২০২৫
জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পূর্ব সাহাপুর ঘনাপাড়া গ্রামে ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ এপ্রিল রাতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ ফারজানা (২৮) বর্তমানে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, ফারজানার স্বামী আতাউর রহমানের নেপিয়ার ঘাসের জমিতে একই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আশরাফের ছাগল ঘাস খাচ্ছিল। বিষয়টি দেখে আতাউরের স্ত্রী ফারজানা ছাগলটি বেঁধে রাখার অনুরোধ করেন। এ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
পরবর্তীতে রাতে, প্রায় ৮টার দিকে, আশরাফ ও তাঁর লোকজনসহ ৮–১০ জনের একটি দলবলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আতাউরের বাড়িতে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ফারজানাকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে নির্মমভাবে মারধর, বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি করে এবং রামদা দিয়ে হত্যাচেষ্টাও চালায়। রামদার কোপ লক্ষ্য করে মাথায় আঘাত করতে গেলে ফারজানা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এতে তাঁর ডান হাত মারাত্মকভাবে কেটে যায়। পরে তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।
ঘটনার চার দিন পর, ২ মে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী আতাউর রহমান।
স্থানীয়ভাবে সরেজমিনে গেলে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’ তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছেন এবং দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর আলম সিদ্দিক বলেন, উক্ত ঘটনায় নিয়মিত মামলা নেওয়া হয়েছে। আমরা তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
খবরওয়ালা/এমবি