খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরান যদি একটি নতুন ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় ব্যাপকভিত্তিক হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়কালকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করেছে। এই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের অস্ত্রাগার পুনরায় পূর্ণ করেছে এবং অত্যাধুনিক গোলাবারুদ মজুত করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং যুদ্ধের ময়দানে ফিরে যেতে “মুখিয়ে আছে”।
ট্রাম্পের মতে, পূর্ববর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও রসদে যে ঘাটতি ছিল, তা এই বিরতির মধ্যে কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন যে, মার্কিন অস্ত্রাগার এখন কানায় কানায় পূর্ণ এবং তার নির্দেশ পাওয়ামাত্রই ইরানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করার জন্য সেনাবাহিনী হাই-অ্যালার্টে রয়েছে।
বক্তব্য চলাকালীন ট্রাম্প ইরানকেও ইঙ্গিত করে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, এই বিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান হয়তো কিছুটা সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে তিনি মনে করেন, মার্কিন শক্তির তুলনায় ইরানের সেই প্রস্তুতি অত্যন্ত নগণ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান যদি একটি বৃহৎ পরিসরের চুক্তিতে সই না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক সংঘাতের পথে হাঁটবে।
নিচে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার মূল বিষয়গুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইরানের অবস্থান |
| মূল লক্ষ্য | নতুন এবং কঠোরতর পরমাণু চুক্তি নিশ্চিত করা। | বিদ্যমান অধিকার রক্ষা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। |
| সামরিক অবস্থা | গোলাবারুদ ও আধুনিক সরঞ্জাম পুনর্মজুতকরণ সম্পন্ন। | নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের চেষ্টা। |
| কূটনৈতিক অবস্থান | ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মাধ্যমে আলোচনা। | কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক চুক্তিতে অস্বীকৃতি। |
| আগ্রাসন নীতি | চুক্তি না হলে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি। | সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি। |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারি নয়, বরং এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি কঠোর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তিনি বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আসতে হবে। অন্যথায়, কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ করে ওয়াশিংটন পুনরায় শক্তি প্রয়োগের পথে ফিরে যাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মজুত করার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, পেন্টাগন দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় ইরান কোনো নতুন চুক্তিতে আসতে রাজি হয় কি না, নাকি এই বাগযুদ্ধ সরাসরি সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়।