খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
গত চার দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগর, হরমুজ সঙ্গমসাগর এবং ওমান উপসাগরে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে ইরানের ১৭টি যুদ্ধজাহাজ, যার মধ্যে একটি সাবমেরিন, ধ্বংস করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (CENTCOM) সিনিয়র মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কূপার।
অ্যাডমিরাল কূপার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, “সরলভাবে বললে, আমরা সেই সকল লক্ষ্যবস্তুকে নিস্ক্রিয় করেছি, যা আমাদের বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের B-1 এবং B-2 বোমারু বিমানগুলো সমন্বিত অভিযানে আরব সাগর, হরমুজ সঙ্গমসাগর ও ওমান উপসাগরে অভিযান চালিয়ে একটি সাবমেরিনসহ ১৭টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “দশক ধরে ইরান এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলে আসছে। এই হামলার পর, এই অঞ্চলে ইরানি জাহাজ আর কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।”
এই অভিযান অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইসরায়েল ‘রোরিং লায়ন’ অভিযান শুরু করেছিল, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শুরু করে। উভয় অভিযানই ইরানি সামরিক ও নৌসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কেন্দ্রিত ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এপিক ফিউরি অভিযানে ৫০,০০০ এর বেশি মার্কিন সেনা ও ২০০-এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
অ্যাডমিরাল কূপার আরও জানান, গত চার দিনে মার্কিন বিমান বাহিনী ২,০০০-এর বেশি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে প্রধান সামরিক ঘাঁটি এবং নৌঘাঁটিও রয়েছে। এই অভিযানগুলোর লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
| অভিযান নাম | শুরু তারিখ | মোতায়েন সেনা ও বিমান | ধ্বংস হওয়া ইরানি লক্ষ্যবস্তু | লক্ষ্য এলাকা |
|---|---|---|---|---|
| এপিক ফিউরি (যুক্তরাষ্ট্র) | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৫০,০০০+ সেনা, ২০০+ বিমান | ১ সাবমেরিন, ১৭ যুদ্ধজাহাজ | আরব সাগর, হরমুজ সঙ্গমসাগর, ওমান উপসাগর |
| রোরিং লায়ন (ইসরায়েল) | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শ্রেণীবদ্ধ | শ্রেণীবদ্ধ | ইরানি সামরিক ও নৌসামরিক লক্ষ্যবস্তু |
সামরিক বিশ্লেষকরা এই অভিযানগুলোকে অঞ্চলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মার্কিন নৌ ও বিমান অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ রক্ষা এবং পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মার্কিন অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে জিওপলিটিক্যাল টানাপোড়েন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
এই অভিযান মার্কিন কৌশলগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক নির্দেশ করছে।