ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য স্থাপন করতে পারছে না—এই অবস্থা সামরিক বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল প্যানেল আলোচনায় তারা ব্যাখ্যা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের ঘাটতি এবং নিম্ন উচ্চতার হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতির অভাব ইরানকে সুবিধাজনক অবস্থায় রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টিমসন সেন্টার এর ‘রিইম্যাজিনিং ইউএস গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’ প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উচ্চ আকাশসীমায় ইরানের সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে কার্যকর হলেও নিচু আকাশে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। ইরান এই ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য রুখে দিচ্ছে।”
গ্রিকোর মতে, ইরান মূলত ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। তারা নিম্ন উচ্চতার ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরোধক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ড্রোন প্রতিরক্ষা খরচ (দ্বিপাক্ষিক সূত্রে)
| দেশ |
প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা |
নিম্ন উচ্চতার ড্রোন শনাক্তকরণ প্রয়োজন |
অনুমানিত খরচ (মিলিয়ন ডলার) |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত |
প্যাট্রিয়ট, থাড |
হ্যাঁ |
120 |
| কুয়েত |
প্যাট্রিয়ট, স্থানীয় সেন্সর |
হ্যাঁ |
85 |
| জর্ডান |
রাশিয়ার এস-৩০০ |
হ্যাঁ |
70 |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান তাদের প্রধান সামর্থ্য হারিয়েছে। আমরা এখন তেহরানের আকাশে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি।” তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করান, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে লড়ছে না, বরং লক্ষ্য হচ্ছে তাদের ব্যয় বৃদ্ধি ও আকাশে বিঘ্ন সৃষ্টি।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মাইকেল ও’হ্যানলন বলেন, ইরানের সামরিক কৌশল ‘দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল’। ড্রোন প্রতিরোধের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ইন্টারসেপ্টর সীমিত, ফলে তারা বেছে বেছে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড মজুত পুনঃস্থাপনে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।”
ড্রোন মোকাবিলায় লেজার প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ, তবে মেঘ বা জলীয় বাষ্পের কারণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা দ্রুত ব্যবহার হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে।
গ্রিকো মন্তব্য করেন, ইরান দিনের পর দিন ছোট আঘাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ও মিত্রদের জন্য ব্যয়বহুল পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উল্লেখ করেন, “ইরানের আধুনিক বাহিনীকে এত দ্রুত এত বিধ্বংসীভাবে মোকাবিলা করা ইতিহাসে বিরল।”
এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, নিম্ন উচ্চতার ড্রোন কৌশল ও ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ ইরানকে আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য রুখতে সক্ষম করেছে।