খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা তার গানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন বিশ্বের দরবারে। ১৮টি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই গিয়েছেন, সম্মান বয়ে এনেছেন নিজের ও দেশের জন্য। তবে শ্রোতাদের মুগ্ধ করা এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর ফ্যাশন সচেতনতাবোধও অনুকরণীয়।
আশির দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও সর্বমহলে তিনি ফ্যাশন সচেতন হিসেবেই পরিচিত। একেবারে সাদামাটা ফ্যাশনেই নিজেকে আলোকিত রেখেছেন। কখনোই চাকচিক্য বা দামি পোশাকের প্রতি আগ্রহবোধ করেননি রুনা লায়লা।
সম্প্রতি দেশের একটি সংবাদমাধ্যমে নিজের সংগীতের বাইরের জীবন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
যেখানে তার ফ্যাশন সচেতনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি বিলাসবহুল পোশাকের প্রতি কখনো মোহ কাজ করেনি বলেও জানালেন তিনি। রুনা লায়লার ভাষায়, ‘আমি কখনো ৪০ হাজার, ৫০ হাজার টাকার শাড়ি কিনিনি। অযথা টাকা নষ্ট করাটা পছন্দ করি না।
কম টাকার কাপড় কিনে বাকি টাকাটা অন্যকে দিয়ে সাহায্য করতে পারলেই আনন্দ পাই। এখনো খুব দামি কাপড় পরি না। যেগুলো পরি, সেগুলো অত দামি না কিন্তু মনে হয় অনেক দামি।’
একটি মজার স্মৃতি উল্লেখ করে এই সংগীতশিল্পী বলেন, ‘আমার মেয়ে তানির বাগদান অনুষ্ঠানে একটা শাড়ি পরেছিলাম। সবাই দেখে বলল, খুব সুন্দর শাড়ি, নিশ্চয়ই খুব দামি। বললাম, দামি না খুব। শুনে সবারই আগ্রহ বেড়ে গেল, কত দাম? বললাম, পনেরো শ রুপি। দাম শুনে সবাই অবাক, হতেই পারে না। আপনি বানিয়ে বলছেন। পনেরো শ রুপির শাড়ি আপনি পরবেন! দেখে মনে হচ্ছে পনেরো হাজার টাকার শাড়ি।’
রুনা লায়লার ফ্যাশন সচেতনতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কলকাতার প্রয়াত চলচ্চিত্রকার ঋতুপর্ণ ঘোষও। তিনি বলেন, ‘স্টার জলসার জনপ্রিয় টক শো ঘোষ অ্যান্ড কম্পানিতে কলকাতার প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ একবার আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, আমার ফ্যাশন স্টাইলগুলো কিভাবে আমি ক্রিয়েট করতাম। বলেছিলাম, এটা আমি সচেতনভাবে করিনি। আমি সাধারণ পোশাকই পরতাম।’
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শেরিফ রুনা লায়লাকে পাকিস্তান সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রুনা লায়লার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সংগীতশিল্পীগোষ্ঠীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন শেহবাজ শরিফ।
খবরওয়ালা/এমএজেড