খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান, যেখানে যুদ্ধবিমান উড়ছে, ধোঁয়া আর বিস্ফোরণের তীব্র গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েল দ্বারা পরিচালিত একাধিক বায়ু হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি কেবল অঞ্চলে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতিতেও আতঙ্কের সঞ্চার করছে। বিশেষভাবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ, যা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তার উপর এই অস্থিতিশীলতার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
এই অশান্তির মধ্যে, আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি: ইরান কি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে, নাকি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দলকে প্রত্যাহার করতে হবে?
বিশ্লেষকরা তিনটি মূল ঝুঁকি চিহ্নিত করেছেন, যা ইরানের অংশগ্রহণকে বিপন্ন করতে পারে:
| ঝুঁকি/কারণ | বিবরণ |
|---|---|
| স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার | ইরান তার ভূখণ্ডে হামলার প্রতিবাদে টুর্নামেন্ট থেকে নিজে সরিয়ে নিতে পারে। |
| নিরাপত্তা উদ্বেগ | ফিফা ও অন্যান্য সংস্থা বিদেশে ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। |
| যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ বিধিনিষেধ | পূর্ববর্তী নীতি অনুযায়ী ইরানি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত ছিল, তবে ক্রীড়াবিদদের জন্য সুবিধা প্রদানের আলোচনা চলছে। |
ফিফার সাধারণ সম্পাদক ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ, যেখানে সকল যোগ্য দল অংশগ্রহণ করতে পারে।” অন্যদিকে, ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “এই হামলার পর ইরানকে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত মনে করা বাস্তবসম্মত নয়।”
ইরান বর্তমানে গ্রুপ জি-তে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের সঙ্গে আছে। দল যদি শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে, ফিফার সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো হতে পারে:
তিনটি দলের সঙ্গে গ্রুপ পর্ব চালিয়ে যাওয়া।
ইরানের স্থলে অন্য একটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো।
বিশেষ পরিস্থিতিতে ফিফার ক্ষমতা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
সম্ভাব্য পরিবর্তনকারী দলগুলো এশিয়ান কোয়ালিফায়ার থেকে আসতে পারে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরাক সবচেয়ে সম্ভাব্য। ইরাক এই মাসে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে অংশগ্রহণ করবে; জেতার ফলে তাদের দাবিকে শক্তি দেওয়া হবে, আর হারের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত সুযোগ পাবে। প্রয়োজনে ফিফা এশিয়ার বাইরে থেকেও দলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে।
বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের প্রত্যাহার খুবই বিরল। ১৯৫০ সালে ভারতের প্রত্যাহারের ফলে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৩-এ কমে গিয়েছিল। যদিও ক্লাব পর্যায়ে প্রত্যাহার সাধারণ, বিশ্বকাপের মতো স্তরে এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট স্থানান্তর বা বৈশ্বিক বয়কট কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। তবুও, ইরানের সম্ভাব্য প্রত্যাহার ফিফা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানের জাতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের হাতে, এবং সমগ্র বিশ্বের নজর এখন তাদের দিকে।