খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
ইরানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মস্কো ও তেহরানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। সম্প্রতি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। ওই হামলা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে তেহরান এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাশিয়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছে এবং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, ‘রাশিয়া অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তুত। ইরান আমাদের অংশীদার এবং আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গতিশীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় তেহরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক বিশেষ দূতের। এর এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে লারিজানি ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি বার্তা তার হাতে তুলে দেন।
গত জানুয়ারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেন। যদিও ওই চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো ধারা নেই। মস্কো জানিয়েছে, তারা আইনগতভাবে তেহরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে, আর ইরান ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে।
রয়টার্স জানায়, গত মাসে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা রোসাটম ইরানের সঙ্গে ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় দেশটিতে চারটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে ইরান; বর্তমানে দেশটির একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর শহরে অবস্থিত, যা রাশিয়াই নির্মাণ করেছিল।
সূত্র: রয়টার্স