১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসন শেষ হয় এবং দেশটির নামকরণ করা হয় ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ বা ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান’। এরপর থেকে ৪৭ বছর ধরে রক্ষণশীল ইসলামি বিপ্লবী সরকার ইরান শাসন করছে। এই সময়ে দেশ অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, পার্শ্ববর্তী যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছে।
ইরানের ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংক্ষেপে নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| সাল | ঘটনা | বিবরণ ও প্রভাব |
|---|---|---|
| ১৯৭৯ ফেব্রুয়ারি | ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা | খোমেনি ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরেন, গণভোটের মাধ্যমে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। |
| ১৯৭৯ নভেম্বর | মার্কিন দূতাবাস দখল | ৫২ কূটনীতিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি রাখা; যুক্তরাষ্ট্র প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। |
| ১৯৮০–৮৮ | ইরান–ইরাক যুদ্ধ | সীমান্ত বিরোধ ও আঞ্চলিক আধিপত্যে সংঘাত, প্রায় ১০ লাখ মানুষ নিহত। |
| ১৯৮২ | হিজবুল্লাহ গঠন | লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণের পর শিয়া মিলিশিয়া গঠিত। |
| ১৯৮৯ | খোমেনির মৃত্যু ও নতুন নেতা | আলী খামেনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। |
| ১৯৯০ | উত্তরের ভূমিকম্প | প্রায় ৪০ হাজার প্রাণহানি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন ওঠে। |
| ১৯৯৫ | তেল ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা | যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে অর্থনীতিতে চাপ বৃদ্ধি। |
| ২০০৩ | ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ | ইরান শিয়া মিলিশিয়া ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সমর্থন। |
| ২০০৬–১০ | পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা ও সাইবার হামলা | স্টাকসনেট ম্যালওয়্যার দ্বারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ। |
| ২০১১ | সিরিয়া সংকট | আসাদ সরকারের সমর্থনে রেভোলিউশনরি গার্ড ও মিলিশিয়া সহায়তা। |
| ২০১৫ | পারমাণবিক চুক্তি | আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার। |
| ২০১৮ | যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি প্রত্যাহার | ট্রাম্প পুনঃনিষেধাজ্ঞা আরোপ। |
| ২০২০ | কাসেম সোলাইমানি নিহত | মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান নিহত; পাল্টা হামলা। |
| ২০২৪–২৫ | আঞ্চলিক উত্তেজনা | দামেস্ক, তেহরান ও অন্যান্য এলাকায় হামলা ও নিহত; ১২ দিনের ইরান–ইসরায়েল সংঘাত। |
| ২০২৬ ফেব্রুয়ারি–মার্চ | সর্বশেষ সংঘাত | ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযান; খামেনি নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত ধ্বংস। |
ইরানের ৪৭ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে লক্ষ্য করা যায় যে, দেশ অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও উত্তেজনায় ভুগছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে ইরানের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়।
শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক নীতির সঙ্গে ইরান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বশেষ সংঘাত ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে দেশটি এখনও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মোটকথা, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাস গভীরভাবে আঞ্চলিক রাজনীতি, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সঙ্গে সংযুক্ত। ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আঞ্চলিক হস্তক্ষেপ আজও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক এবং সামরিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।