খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক। তারা সন্দিহান, যে এই হত্যার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তিত হবে কি না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের পাশাপাশি দেশটির শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন করাও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় ইরানিদের আহ্বান জানিয়েছেন, “স্বাধীনতার জন্য আকুল যারা আছেন, এই মুহূর্তকে কাজে লাগান।”
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে বিরোধী দলগুলো সহজে হটাতে পারবে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। একটি হোয়াইট হাউস অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কোনও নেতা বা সমমনা ধর্মীয় নেতা। তবে গোয়েন্দারা মনে করছেন, আইআরজিসি কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বেন না।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি (সারসংক্ষেপ)
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| সাময়িক নেতৃত্ব | প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য, বিচার বিভাগের প্রধান | ‘পরিচালনা পর্ষদ’ শীর্ষ নেতা দায়িত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ |
| নিরাপত্তা বাহিনী | আইআরজিসি, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী | ক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তি ব্যবহার করার সম্ভাবনা |
| জনগণিক প্রতিক্রিয়া | জনরোষ, বিক্ষোভ | গত জানুয়ারিতে আন্দোলন দমন, জনগণের কাছে সরকারের অপ্রিয়তা বৃদ্ধি |
| বৈদেশিক হস্তক্ষেপ | যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল | হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা, ধ্বংসযজ্ঞ ও নাগরিক হতাহতের ঘটনা |
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের বর্তমান সরকার গুরুতর চাপের মুখে। তারা জনগণের কাছে অপ্রিয়, তবে শাসকগোষ্ঠী এখনো শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।
ইরানের রাষ্ট্র টেলিভিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দেশকে বিভক্ত করার অভিযোগ এনেছেন। হামলার পর জেবেল আলী বন্দরে ধোঁয়া দেখা গেছে এবং ইসরায়েলের হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছেন, বেশিরভাগই শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথান প্যানিকফ বলেন, “যদি ইরানি জনগণ রাস্তায় নেমে আসে, সাফল্য নির্ভর করবে নিরাপত্তা বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের সিদ্ধান্তের ওপর। অন্যথায়, অস্ত্রধারী শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।”
মার্কিন কর্মকর্তারা ক্রমেই হতাশ; তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত কোনও বিরোধী নেতা বাস্তবে ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ট্রাম্পের বার্তাও ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান সরকারের পতন অতি-দ্রুত ঘটবে না। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা এখনও অনিশ্চিত।