খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে দেশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় কমপক্ষে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭৬ শিশু এবং মোট ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, জানিয়েছে মার্কিন ভিত্তিক ইরানের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ।
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার জানান, দেশজুড়ে মোট নয়টি হাসপাতালে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উপর এই আঘাত জনজীবনের জন্য মারাত্মক বিপদ সৃষ্টি করছে। আহতদের সঠিক চিকিৎসা দিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।”
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, সংঘাত শুরু হওয়া থেকে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি অবস্থান লক্ষ্য করে এক হাজারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এতে আহতের সংখ্যা ও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য।
নিচের টেবিলে বিভিন্ন তথ্য সারসংক্ষেপ আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| মোট নিহত | ৭৮৭ জন |
| শিশু নিহত | ১৭৬ জন |
| বেসামরিক নিহত | ৭৪২ জন |
| আক্রান্ত হাসপাতাল | ৯টি |
| শহর যেখানে হামলা | ১৫৩টি |
| অবস্থান যেখানে হামলা | ৫০০+ |
| হামলার মোট সংখ্যা | ১০০০+ |
তবে হামলার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, হাসপাতালকে উদ্দেশ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি। এর বিপরীতে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় দেশকে হাসপাতালকে আঘাত করার জন্য দায়ী করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই হামলা অব্যাহত থাকলে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক জীবনধারার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যেই স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতের এই মাত্রা নাগরিকদের উপর ব্যাপক ভীতি ও সামাজিক অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করছে, এবং দ্রুত শান্তি প্রক্রিয়া কার্যকর করা না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
এই সংঘর্ষে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মৃত্যু সংখ্যা সমন্বয় করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানবিক ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এখন অতি জরুরি।
এই প্রতিবেদনের আলোকে স্পষ্ট যে, ইরানের নাগরিক ও শিশুদের জীবনযাত্রা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সমাধান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে।