খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দোরচে শহরে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট ও দুই বেসামরিক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলটি শহরের একটি ব্যস্ত ফলের বাজারে ছিল। দোরচে শহরে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি বড় বিমানঘাঁটি অবস্থিত, যা দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর তা আগুনে জ্বলতে শুরু করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা আগুন নেভানোর পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে ব্যস্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে কারিগরি ত্রুটিকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এক বিবৃতিতে নিহত সেনা সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন—
| পদ | নাম | দায়িত্ব |
|---|---|---|
| কর্নেল | হামেদ সারভাজাদ | পাইলট |
| মেজর | মোজতবা কিয়ানি | কো-পাইলট |
দুর্ঘটনার সময় বাজারে অবস্থানকারী আরও দুই বেসামরিক ব্যবসায়ী প্রাণ হারান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, হেলিকপ্টারটি আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়, যা হতাহতের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিচার বিভাগের প্রধান আসাদোল্লাহ জাফারি পৃথকভাবে একটি মামলা গ্রহণ করে তদন্তকারী দল পাঠিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমানও প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিধ্বস্ত হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই বিমানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত F-4 Phantom II মডেল। সেখানে একজন পাইলট নিহত হন, আরেকজন ইজেক্ট করে প্রাণে বেঁচে যান। প্রাথমিকভাবে কারিগরি ত্রুটিকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরা হয়েছিল এবং ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান।
দীর্ঘদিনের মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ বহর আধুনিকীকরণে সীমাবদ্ধ। যদিও রাশিয়া থেকে কিছু যুদ্ধবিমান ও প্রশিক্ষণ বিমান ক্রয় করেছে, তবে আধুনিক সু–৩৫ যুদ্ধবিমান এখনও সরবরাহ হয়নি।
এই দুর্ঘটনা এমন একটি সময় সংঘটিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র এবং নতুন পারমাণবিক আলোচনা চলমান। সামরিক প্রশিক্ষণ ও পুরনো বিমান বহরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।