খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার মাঝে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পূর্ব এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং এই হামলাকে কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
রবিবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ তৎপরতাকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) মারফত প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ওপর এই হামলা ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যবাদী ও ‘মাফিয়া’ সুলভ আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। উত্তর কোরিয়ার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে যে একক আধিপত্য কায়েম করতে চায়, তার পথে অন্তরায় হওয়া দেশগুলোকে তারা কৌশলে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
পিয়ংইয়ং দাবি করেছে যে, ইরানের ওপর এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা কোনো বিস্ময়কর ঘটনা নয়। বরং মার্কিন প্রশাসনের ‘গ্যাংস্টার’ বা গুণ্ডাসুলভ মনোভাবের কারণেই ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে এমন বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক আচরণ বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক মারাত্মক হুমকি এবং এটি যেকোনো পরিস্থিতিতেই অগ্রহণযোগ্য।
নিচে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রদান করা হলো:
| বিষয়বস্তু | উত্তর কোরিয়া-ইরান সহযোগিতার ক্ষেত্র | বর্তমান প্রেক্ষাপট |
| প্রতিরক্ষা সহযোগিতা | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময় ও ড্রোন গবেষণা। | পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে উভয় দেশই সোচ্চার। |
| কূটনৈতিক অবস্থান | উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাম্রাজ্যবাদী শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে। | আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একে অপরকে সমর্থন প্রদান। |
| নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা | অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে গোপন বাণিজ্য। | ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর পরোক্ষ মিত্র হিসেবে পিয়ংইয়ং। |
| পারমাণবিক বিতর্ক | ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমাদের উদ্বেগ। | উভয় দেশই আইএইএ-র চাপের মুখে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনড়। |
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই জোরালো প্রতিবাদ কেবল কথার লড়াই নয়। এটি মূলত ইরান, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার গড়ে ওঠা একটি অলিখিত ‘পশ্চিমবিরোধী মোর্চা’র সংহতি প্রকাশ করে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যেকোনো পাল্টা পদক্ষেপকে নৈতিক সমর্থন দেবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে মদত দেওয়া বন্ধ না করে, তবে এর পরিণাম পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হবে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান যে পদক্ষেপই গ্রহণ করুক না কেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সমর্থন পাবে। এই পরিস্থিতির ফলে লোহিত সাগর থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।