ইরান সংকট: ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি ও তেহরানের রণপ্রস্তুতি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং এর প্রেক্ষিতে তেহরান সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকারের সহিংস আচরণের নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

বিক্ষোভ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান

টানা ১৬ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

এক নজরে ইরান বিক্ষোভ ও সামরিক উত্তেজনা

বিষয়ের ক্ষেত্র বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান
বিক্ষোভের স্থায়িত্ব ১৬ দিন (চলমান)
নিহত বিক্ষোভকারী ৬৪৮ জন (সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস)
গ্রেপ্তারকৃত সংখ্যা ১০,৫০০+ জন
মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বাহরাইন, কাতারসহ ৮টি দেশে স্থায়ী ঘাঁটি
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা মধ্যপাল্লা (১২৪০ কিমি) ও স্বল্পপাল্লা (৪৩৫ কিমি)
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিকল্প সামরিক হামলা, সাইবার যুদ্ধ, কঠোর নিষেধাজ্ঞা

ট্রাম্পের সামরিক বিকল্প ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের বৈঠক

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ মঙ্গলবার তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কিন প্রশাসন কেবল সামরিক হামলাই নয়, বরং গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা এবং ইরান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে বিরোধী পক্ষকে সহায়তার মতো বিকল্পগুলোও টেবিলে রেখেছে। ট্রাম্পের মতে, তেহরান বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়ে ‘শেষসীমা’ অতিক্রম করা শুরু করেছে।

ইরানের পাল্টা হুমকি ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানে কোনো হামলা হলে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইন, মিসর, কাতার, কুয়েত এবং আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে পর্যাপ্ত স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে এই ঘাঁটিগুলোতে সহজেই আঘাত হানা সম্ভব।

সংলাপ না কি যুদ্ধ?

উত্তেজনার মধ্যেও সংলাপের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়নি। আরাগচি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে তেহরান শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার টেবিলে কোনো প্রকার হুমকি বা একতরফা নির্দেশনা দেওয়া যাবে না। ইরান চায় সম্মানজনক সমাধান, তবে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিক্ষোভের প্রকৃত খবর পেতে বিশ্ববাসীর বেগ পেতে হচ্ছে। যদিও আরাগচি দাবি করেছেন পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে, তবুও বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন ওয়াশিংটনের আজকের বৈঠকের দিকে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।