খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সম্প্রতি ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি জানিয়েছে। গোষ্ঠীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্য হিসেবে হাইফা নৌঘাঁটি এবং তেল হাশোমের সামরিক ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ একটি বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তারা হাইফা নৌঘাঁটিতে একটি ‘স্কোয়াড্রন’ ড্রোন পাঠিয়েছে। একই সময়ে তেল হাশোমের বেসেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গোষ্ঠীর দাবি, তেল হাশোমের বেসটি ইসরাইলের জেনারেল স্টাফ সদরদপ্তর হিসেবে পরিচিত। একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে এই ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে যে, লেবাননের বিভিন্ন শহর ও জনপদ—বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর—ইসরাইলের ‘অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ জবাব হিসেবেই এই হামলার অংশ ছিল। গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে, এটি তাদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে দুই ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন। তাঁদের আহত হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যান্টি-ট্যাংক গোলাবর্ষণ। আহত সেনাদের তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
নিচের টেবিলটি সাম্প্রতিক হামলার প্রধান তথ্যসংক্ষেপ প্রদান করছে:
| লক্ষ্যবস্তু | হামলার ধরন | সময় | লক্ষ্যবস্তু বর্ণনা | দায়ভার | প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|---|---|---|
| হাইফা নৌঘাঁটি | ড্রোন হামলা | দুপুর ২টা | নৌঘাঁটি, সামরিক কেন্দ্র | হিজবুল্লাহ | ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া |
| তেল হাশোম বেস | ড্রোন হামলা | একই সময় | জেনারেল স্টাফ সদরদপ্তর | হিজবুল্লাহ | প্রতিশোধমূলক হামলা |
| লেবাননের দক্ষিণ শহরসমূহ | আংশিক নজরদারি | দুপুর ২টার আশেপাশে | বিভিন্ন জনপদ | হিজবুল্লাহ | ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া |
সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ স্থিতিশীল নয়। হামলার ধারা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম উভয়পক্ষের জন্যই উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ধরনের ড্রোন হামলা ভবিষ্যতে আরও জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।
এতে স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনও অব্যাহত এবং সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।