আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক এবং সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ইসরায়েলের কারাগারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা আদালাহ শনিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বহু আটককৃত অধিকারকর্মী পর্যাপ্ত খাবার ও পানি পাচ্ছেন না এবং কেউ কেউ ইসরায়েলি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সী সুইডিশ জলবায়ু কর্মী থুনবার্গকে ইসরায়েলি কারাগারে কঠোর ও অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হয়েছে। বুধবার রাতে গাজাগামী ফ্লোটিলা অভিযানে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ৪২টি নৌযানসহ ৪৫০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে আটক করে। এর মধ্যে ১৩৭ জনকে তুরস্কের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আদালাহ জানিয়েছে, এক বন্দি আইনজীবীকে বলা হয়েছে যে তাকে এবং থুনবার্গকে আটক করার পর ইসরায়েলি পতাকার সামনে দাঁড় করিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা গেছে, দূতাবাস কর্মকর্তারা থুনবার্গের সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হয়েছেন। থুনবার্গ জানিয়েছেন, তিনি পানিশূন্যতায় ভুগছেন, যথেষ্ট পানি ও খাবার পাচ্ছেন না।
সুইডিশ দূতাবাসের এক ইমেইলে বলা হয়েছে, থুনবার্গের শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছে, যা তিনি বেডবাগ বা ছারপোকার কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্ত মেঝেতে বসানো হয়েছে এবং কারারক্ষীদের আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট এরসিন চেলিক জানান, কারা কর্তৃপক্ষ থুনবার্গকে লক্ষ্যবস্তু করে নির্যাতন চালিয়েছে এবং তাকে ‘ইসরায়েলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করা হয়েছিল’। তবে ইসরায়েলি কারা প্রশাসনের মুখপাত্র এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে ‘অবগত নন’ বলে জানান।
আদালাহর আইনজীবীদের কাছে আরও বহু বন্দি অভিযোগ করেছেন যে, আটক প্রক্রিয়ার সময় তাদের ধাক্কা দেওয়া, মাটিতে ফেলে রাখা এবং মুষ্টিবদ্ধ আঘাত করা হয়েছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে হাঁটু গেড়ে বসতে হয়েছে এবং অভিবাসন ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া পর্যন্ত কোনো বিশ্রাম দেওয়া হয়নি।
চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির কারাগার পরিদর্শন করে বলেছেন, ফ্লোটিলা সদস্যদের ‘ন্যূনতমেরও ন্যূনতম’ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, “যেমনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সন্ত্রাসবাদের সমর্থক এই অধিকারকর্মীরা এখন নিরাপত্তা কারাগারে আছেন। তারা এখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মতোই কঠোর শর্তে রয়েছে।” বেন গভির অতীতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য আরও কঠোর পরিবেশ চালুর দাবিও জানিয়েছিলেন।
মানবিক সহায়তা ও গাজার ওপর দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের প্রতিবাদে ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ যাত্রা শুরু করেছিল।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
খবরওয়ালা/টিএসএন