খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩১ | ৫ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে জিহাদের আহ্বান জানিয়ে বিরল ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স (আইইউএমএস)। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ১৭ মাসব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে এই ফতোয়া দেওয়া হয়। ১৪ জন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত এই ফতোয়ার সমর্থনে অবস্থান নিয়েছেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব আলী আল-কারাদাঘি বলেন, ‘গাজায় গণহত্যা বন্ধে সমস্ত মুসলিম দেশকে সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতে হবে।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে আরব ও ইসলামিক সরকারগুলো ব্যর্থ হলে, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে এক বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’
১৫ দফা বিশিষ্ট এই ফরমানে মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে করা শান্তিচুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন মুসলমানদের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়, যেন তিনি গাজায় যুদ্ধ বন্ধে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।
আলী আল-কারাদাঘি আরও বলেন, ‘গাজার মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞে জড়িত কাফের শত্রুকে যেকোনোভাবে সহায়তা করা—তা অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে হোক কিংবা আন্তর্জাতিক বন্দর বা জলপথ ব্যবহার করে যেকোনো রকমের সহযোগিতা—ইসলামে নিষিদ্ধ।’
তিনি সুয়েজ খাল, বাব আল-মান্দাব, হরমুজ প্রণালীসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পথ ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ফতোয়া জারি করেছি যাতে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে গাজার নির্যাতিত ভাইদের সহায়তা করা যায়।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে গাজায় কমপক্ষে ৫০ হাজার ৬০৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট-এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
খবরওয়ালা/আরডি